যমুনার বৃত্তান্ত: মর্মরের কারাগার

 

যমুনার বৃত্তান্ত: মর্মরের কারাগার

খিলানের পর খিলান। মর্মরের পর মর্মর। বাতাস এখানে আত্তার আর ষড়যন্ত্রের গন্ধে ভারী। এই ঘরটা একটা খাঁচা। সোনার খাঁচা, হাতির দাঁতের কারুকাজ করা এক নিশ্ছিদ্র কারাগার। এই ঘরের জাফরি কাটা জানালা দিয়ে একটা নদী দেখা যায়। যমুনা। আমার কাছে ওটা নদী নয়, ওটা একটা সম্ভাবনা। একটা তরল পথ যা এই দুর্গ, এই শহর, এই সুলতানিকে পাশ কাটিয়ে বয়ে চলেছে অনন্তের দিকে। আমি, জাহানারা, দিল্লির সুলতানের মেয়ে, এই জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনের পর দিন। ঋতুর পর ঋতু। আমার চোখ যমুনার স্রোতের উপর দিয়ে ভেসে চলে যায়, দিগন্তে যেখানে আরাবল্লির ধূসর ছায়া আকাশকে ছুঁয়েছে, সেইখানে। আমার ইচ্ছে হয়, সব ছেড়েছুড়ে একটা ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হতে। বল্গা টেনে ধরতে। ধুলো উড়িয়ে যমুনা পার হয়ে যেতে। তারপর আরাবল্লির পাথুরে জমিতে ঘোড়ার খুরের শব্দ তুলে হারিয়ে যেতে এমন কোনো মুলুকে, যেখানে আমাকে কেউ ‘শাহজাদী’ বলে না, যেখানে আমার পরিচয় আমার শরীরে নয়, আমার ইচ্ছের স্বাধীনতায়।

কিন্তু ইচ্ছে? শাহজাদীদের কি ইচ্ছে থাকতে আছে? আমাদের ইচ্ছেগুলো হেরেমের দেওয়ালের মতো উঁচু আর নীরব। আমার শরীরের দিকে তাকাই আমি। রেশমের আস্তরণের নিচে আমার বাহুর মাংসপেশী শক্ত হয়ে ওঠে। উরুর জোর আমি টের পাই। এ কোনো নরম, তুলতুলে রাজকন্যার শরীর নয়। এ শরীর যুদ্ধের জন্য তৈরি, এ শরীর ঘোড়া ছোটানোর জন্য তৈরি। যৌবন আমার শরীরে এসেছে কোনো লাজুক বধূর মতো নয়, এসেছে এক আরব দেশীয় তাজি ঘোড়ার মতো—তেজি, দুরন্ত, লাগামছাড়া হতে চাওয়া এক বন্য শক্তি নিয়ে। আমি আয়নার সামনে দাঁড়াই। আমার বুকের उभार, আমার নিতম্বের বঙ্কিম রেখা—এসব এখন পূর্ণ। প্রকৃতি তার কাজ করেছে। কিন্তু যে প্রকৃতির নিয়মে এই শরীর একজন সঙ্গীর জন্য আকুল হয়ে ওঠে, সেই নিয়ম এই প্রাসাদের ফটকে এসে থেমে যায়। পুরুষ সঙ্গী নেই। সুলতান, আমার আব্বাজান, বোধহয় ভুলেই গেছেন যে তাঁর একটা মেয়ে আছে, যার বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যস্ত। তখত্-এ-তাউস সামলাতে ব্যস্ত, মনসবদারদের বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত, নতুন রাজ্য জয়ের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। তাঁর সাম্রাজ্যের মানচিত্রের সামনে তাঁর কন্যার যৌবনের মানচিত্রটা বড্ড ফ্যাকাশে, বড্ড গুরুত্বহীন।

আমার যত স্বপ্ন ছিল, সব এই যৌবনের সাথে দেওয়ালের গায়ে শ্যাওলার মতো জন্মেছে আর শুকিয়ে মরে গেছে। ছোটবেলায় শুনতাম পরীদের গল্প, দূর দেশের রাজকুমারদের গল্প। ভাবতাম, একদিন সাদা ঘোড়ায় চড়ে কোনো শাহজাদা আসবে, আমাকে এই বন্দিদশা থেকে মুক্ত করবে। এখন বুঝি, ওসব গল্প হেরেমের মেয়েদের ঘুম পাড়ানোর জন্য, তাদের জাগিয়ে তোলার জন্য নয়। আমার জাগরণ হয়েছে অন্যভাবে। আমার শরীরের জাগরণ। আমার কামনার জাগরণ। এই যে মধ্যরাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়, এই যে বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত শূন্যতা আর জ্বালা শুরু হয়, এই যে শিরার ভেতর রক্তস্রোত যমুনার চেয়েও বেশি অশান্ত হয়ে ওঠে—এই অনুভূতির কথা আমি কাকে বলব? আমার বাঁদিরা? তারা শুধু আমার শরীর সাজাতে জানে, আমার শরীরের ভেতরের আগুনের খবর তারা রাখে না। আমার আম্মিজান? তিনি নিজেই তো এই ব্যবস্থার শিকার, তাঁর চোখে এখন শুধু রাজ্যের নিরাপত্তা আর বংশের ভবিষ্যতের চিন্তা। আমার এই নিঃসঙ্গ কামনার কথা জানে শুধু এই ঘরের দেওয়ালগুলো, এই ছাদের কার্নিশ, এই পাথরের খিলানগুলো। রাতের অন্ধকারে আমি যখন নিজের শরীরকে নিজেই স্পর্শ করি, তখন এই নিষ্প্রাণ পাথরগুলোই যেন আমার নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে। ওরা যেন ফিসফিস করে বলে, "আমরা জানি, জাহানারা। আমরা তোমার অতৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস চিনি।"

ধর্ম? আমাকে শেখানো হয়েছে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তিনি মনের খবর রাখেন। আমি জায়নামাজে বসেছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিজদায় মাথা ঠেকিয়ে রেখেছি। দোয়া করেছি। ইয়া আল্লাহ, আমাকে সবর দাও। আমাকে এই আগুন থেকে মুক্তি দাও। কিন্তু আমার দোয়া কি তাঁর আরশ পর্যন্ত পৌঁছায়? নাকি এই দুর্গের পাথরের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে? আমার মনে হয়, আল্লাহও বোধহয় পুরুষ। তিনি পুরুষের যুদ্ধ, পুরুষের সাম্রাজ্য, পুরুষের প্রার্থনাই বেশি শোনেন। এক নারীর শরীরের ভেতরের এই নীরব যুদ্ধের খবর তাঁর কাছে পৌঁছায় না। আমার ধর্ম আমাকে শেখায় সংযম, শেখায় পর্দা। কিন্তু যে শরীরকে পর্দার আড়ালে রাখতে বলে, সেই শরীরের ভেতরের চাহিদাগুলোকে অস্বীকার করতে বলে না তো! তাহলে এই विरोधाभास কেন? এই দ্বৈততা কেন? আমার বঞ্চনা শুধু একজন পুরুষের সঙ্গ থেকে নয়, আমার বঞ্চনা আমার নিজের বিশ্বাসের কাছ থেকেও। আমার ধর্ম আমাকে শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সে আমাকে নিয়ম দিয়েছে, কিন্তু মুক্তি দেয়নি।

আমার জীবনে প্রেম একবারই এসেছিল। এসেছিল এক দমকা হাওয়ার মতো, জাফরি দিয়ে চুঁইয়ে আসা একফালি চাঁদের আলোর মতো। সে কোনো শাহজাদা ছিল না। সে ছিল ইউসুফ। রাজকীয় কুতুবখানার এক তরুণ লিপিকর। তার কাজ ছিল পুরনো পুঁথি নকল করা আর সুলতানের ফরমানের খসড়া বানানো। তার আঙুলগুলো ছিল লম্বা আর সুন্দর। কালির দোয়াত থেকে কলম তুলে যখন সে পারস্যের হরফে লিখত, আমার মনে হতো সে যেন কাগজর ওপর কবিতা বুনছে। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতাম, শুধু তাকে এক ঝলক দেখার জন্য। তার চোখে কোনো লোভ ছিল না, ছিল না কোনো ভয়। ছিল এক গভীর প্রশান্তি, যেন এই গোটা সুলতানি, এই সমস্ত ক্ষমতা, ষড়যন্ত্র—কোনোকিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

আমাদের কথা হতো না। হওয়ার উপায় ছিল না। শুধু দৃষ্টি বিনিময় হতো। আমি যখন বারান্দায় আসতাম, সে একবারের জন্য মুখ তুলে তাকাত। সেই এক মুহূর্তের দৃষ্টি বিনিময়ে যেন হাজার বছরের কথা হয়ে যেত। আমি তার চোখে আমার জন্য কৌতূহল দেখতাম, হয়তো একটু প্রশংসাও। আর আমার চোখে? আমার চোখে ছিল আমার সমস্ত অতৃপ্তি, আমার সমস্ত লালসা, আমার সমস্ত স্বপ্ন নিয়ে এক desperate আর্তি। আমি তাকে আমার কল্পনায় আমার পুরুষ বানিয়ে নিয়েছিলাম। রাতের অন্ধকারে যখন আমার শরীর পুড়ে যেত, আমি ভাবতাম ইউসুফের কথা। আমি ভাবতাম, তার ওই সুন্দর আঙুলগুলো আমার শরীরে কবিতা লিখছে। এই কল্পনা ছিল আমার পাপ, আমার গোপন আশ্রয়। এই প্রেম ছিল আমার ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ—সুলতানের মেয়ে হয়ে আমি এমন একজনকে ভালোবেসেছি, যার সাথে আমার ছায়াটুকুও মিশে যাওয়া গুনাহ।

একদিন একটা সুযোগ এলো। সুলতানের জন্মদিনে কুতুবখানা থেকে কিছু বাছাই করা শের আবৃত্তি করার জন্য ইউসুফকে ডাকা হলো। সে এলো। দামি পোশাক পরে। কিন্তু তার सहजता একটুও কমেনি। সে যখন রুমি, হাফিজের শের পড়ছিল, তার চোখ বারবার আমার দিকে উঠে আসছিল। তার কণ্ঠস্বরে ছিল যমুনার গভীরতা। সে পড়ছিল:
"প্রেমাস্পদের খোঁজে আমি ঘুরেছি জগৎময়,
আমার মনে হচ্ছিল, সে যেন আমার কথাই বলছে। আমার শরীর কাঁপছিল। সেদিন প্রথমবার আমি সুলতানের কাছে একটা আরজি নিয়ে গেলাম।
"আব্বাজান," আমি বলেছিলাম, "আমি ক্যালিগ্রাফি শিখতে চাই। আমার জন্য একজন উস্তাদ ঠিক করে দিন।"
আমার বলার ভঙ্গি এমন ছিল যে সুলতান অবাক হলেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, যাক, মেয়ের মন অন্তত একটা ভালো কাজে মজেছে। তিনি রাজি হলেন। আমার উস্তাদ হিসেবে নিযুক্ত হলো ইউসুফ।

সেই দিনগুলো ছিল আমার জীবনের বসন্ত। সপ্তাহে তিনদিন সে আসত। আমাদের মাঝে থাকত একটা পর্দা। কিন্তু সেই পাতলা পর্দার এপার-ওপার থেকে আমরা কথা বলতাম। সে আমাকে হরফ চেনাত, আর আমি তার голосе আমার জীবনের মানে খুঁজতাম। সে আমাকে শেখাত কীভাবে কলম ধরতে হয়, আর আমার মনে হতো আমি যেন তার হাতটাই ধরে আছি। আমাদের প্রেম ছিল শব্দে, আমাদের লালসা ছিল নীরবতায়। আমি জানতাম, এটা একটা বিপজ্জনক খেলা। একটা স্ফুলিঙ্গ গোটা হেরেমকে জ্বালিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমি সেই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। কারণ ওই কয়েকটা ঘণ্টা আমি শাহজাদী থাকতাম না, আমি হয়ে উঠতাম শুধু জাহানারা। একজন নারী, যে ভালোবাসে, ভালোবাসতে চায়।
আমার ভেতরের নারীটা তখন জেগে উঠেছে। আমার শরীর আর শুধু কামনার আধার ছিল না, ছিল ভালোবাসার তীর্থ। আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছিলাম। আমি হাসতে শিখেছিলাম, লজ্জা পেতে শিখেছিলাম। আমার পৃথিবীটা আর ওই জাফরি কাটা জানালা ছিল না, আমার পৃথিবী হয়ে উঠেছিল ওই পাতলা পর্দাটা, যার ওপারে আমার ইউসুফ বসে থাকত।

কিন্তু এই সুলতানিতে কোনো বসন্তই চিরস্থায়ী নয়। এখানে ক্ষমতার শীত বড্ড তাড়াতাড়ি নেমে আসে। আমাদের এই গোপন সম্পর্কের খবর পৌঁছে গেল সুলতানের কানে। এক রাতে আমার ঘরে এলেন সুলতান। তাঁর চোখে আগুন। তিনি একটা কথাও বললেন না। শুধু আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন আমি তাঁর বংশের গায়ে লাগানো সবচেয়ে বড় কলঙ্ক।
পরদিন সকালে আমি আর ইউসুফকে দেখতে পাইনি। আমার ক্লাস বন্ধ হয়ে গেল। আমি পাগলের মতো খোঁজ করার চেষ্টা করলাম। বাঁদিদের ধরলাম, খোজাদের ধরলাম। কেউ মুখ খোলে না। সবার চোখে ভয়।
সপ্তাহখানেক পর, এক বিশ্বস্ত বাঁদি আমার হাতে একটা ছোট পুঁটলি দিল। ভয়ে ভয়ে। বলল, "শাহজাদী, এটা যমুনার ঘাট থেকে পেয়েছি।"
পুঁটলিটা খুলতেই আমার পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেল। ভেতরে ছিল একটা কাটা আঙুল। সেই লম্বা, সুন্দর আঙুল, যা দিয়ে ইউসুফ কবিতা লিখত। আর ছিল একটা শুকনো গোলাপ।
আমার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোল না। আমি কাঁদতেও পারলাম না। আমার ভেতরের সবকিছু যেন এক মুহূর্তে পাথর হয়ে গেল। আমার প্রেম, আমার লালসা, আমার স্বপ্ন—সবকিছুকে আমার আব্বাজান, দিল্লির সুলতান, ওই একটা আঙুলের সাথে কেটে যমুনার জলে ভাসিয়ে দিয়েছেন। এটাই ছিল আমার বঞ্চনা। সবচেয়ে বড় বঞ্চনা। যে পিতা আমাকে জন্ম দিয়েছেন, তিনিই আমার আত্মাকে হত্যা করলেন।

এখন আমি আবার সেই জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু এখন আর যমুনার দিকে তাকিয়ে আমার মনে কোনো স্বপ্ন জাগে না। এখন যমুনাকে আমার মনে হয় এক বিশাল কবরখানা, যেখানে আমার ভালোবাসা, আমার ইউসুফের স্মৃতি সমাধিস্থ হয়ে আছে। আরাবল্লিকে এখন আর দূরের কোনো আশ্রয় মনে হয় না, মনে হয় আমার কারাগারের শেষ দেওয়াল।
আমার শরীরটা এখনও আছে। যৌবনও আছে। কিন্তু এর ভেতরে যে আগুনটা জ্বলত, সেটা নিভে গেছে। এখন সেখানে শুধু ছাই। ঠান্ডা, ধূসর ছাই। মাঝে মাঝে রাতের বেলা সেই পুরনো জ্বালাটা ফিরে আসে। কিন্তু এখন আর আমি ইউসুফের কথা ভাবি না। এখন আমার শুধু ঘৃণা হয়। নিজের শরীরের ওপর ঘৃণা হয়, এই ব্যবস্থার ওপর ঘৃণা হয়, আমার সুলতান পিতার ওপর ঘৃণা হয়। আর সবচেয়ে বেশি ঘৃণা হয় আমার নিজের ধর্মের ওপর। যে ধর্ম একজন নিরপরাধ শিল্পীকে ভালোবাসার ‘অপরাধে’ হত্যা করাকে সমর্থন করে, সেই ধর্মকে আমি মানি না। আমার আল্লাহ মরে গেছে। ইউসুফের সাথেই মরে গেছে।

সুলতান এখন আমার বিয়ের কথা ভাবছেন। রাজনৈতিক মিত্রতার জন্য, কোনো এক দূর দেশের বুড়ো শাসকের সাথে আমার নিকাহ্ দেওয়া হবে। আমি না করিনি। এখন আর কিছুতেই আমার কিছু যায় আসে না। আমার শরীরটা যদি সুলতানির কোনো কাজে লাগে, তো লাগুক। এর ভেতরে তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এটা এখন একটা খালি খোলস। একটা ходячий मकबरा।
আমি ঘোড়া চড়তে চেয়েছিলাম। সুলতান আমার পা থেকে অদৃশ্য বেড়িটা খুলে নেননি, বরং আমার আত্মাটায় লাগাম পরিয়ে দিয়েছেন। আমি এখন তাঁর সবচেয়ে অনুগত, সবচেয়ে নিষ্প্রাণ পুতুল।
দিল্লির আকাশে চাঁদ ওঠে। যমুনার জলে তার ছায়া পড়ে। খিলানের পর খিলান পেরিয়ে রাতের বাতাস বয়ে যায়। তারা হয়তো এখনও আমার দীর্ঘশ্বাস শুনতে পায়। কিন্তু এখন আর সেই দীর্ঘশ্বাসে কোনো আকুতি নেই, কোনো কামনা নেই। আছে শুধু এক শীতল শূন্যতা। এক ব্যর্থ জীবনের বৃত্তান্ত, যা এই মর্মরের কারাগারে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, অনন্তকাল ধরে।

Comments

Popular posts from this blog

লেখকের নিয়তি

লীলা মজুমদার - আনন্দের জগৎ