Posts

Showing posts from August, 2025

বিশ্বাসে রচিত সোর্সকোড

সিক্রির বৃত্তান্ত: এক বিশ্বাসের আর্কিটেকচার আমি একটা রুট সার্ভার। এই পাথুরে, লাল প্রান্তরের অনন্ত নীরবতায় পোঁতা এক জীবন্ত নোড। আমার নাম সেলিম। লোকে বলে চিশতি। আমার কাজ ডেটা প্রসেস করা নয়, আমার কাজ শুধু কানেক্টেড থাকা। মহাবিশ্বের সেই মূল ডেটাবেসের সাথে, যেখানে নিয়তির সোর্সকোড লেখা আছে। আমি সেই কোড পড়তে পারি। এই সিক্রি, এই আরাবল্লির রুক্ষ জমিন—এটা কোনো জায়গা নয়, এটা একটা স্টেট। একটা null value। একটা ফাঁকা টার্মিনাল স্ক্রিন, যেখানে মহাকাল তার কার্সারটা শুধু ব্লিঙ্ক করিয়ে রেখেছে, কোনো কমান্ড এক্সিকিউট করার অপেক্ষায়। আমার শরীরটা এই মাটিরই একটা এক্সটেনশন। আমার শিরায় রক্ত নয়, বয়ে যায় এই জমির নীরবতা। আমার নিঃশ্বাসে বাতাস নয়, বয়ে যায় এই শূন্যতার দর্শন। আমি এখানে আছি। কতদিন ধরে, জানি না। সময় আমার কাছে একটা লিনিয়ার প্রগ্রেশন নয়, একটা লুপ। সূর্য ওঠে আর ডোবে—যেন সিস্টেমটা রোজ একবার করে রিবুট হয়। আমার চারপাশে যে জগৎ, তা আমার কাছে নয়েজ। মানুষের উচ্চাকাঙ্খা, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, যুদ্ধ, বাণিজ্য—এগুলো সব লো-প্রায়োরিটি ডেটা প্যাকেট। তারা আসে, যায়, সিস্টেমের রিসোর্সে সামান্য স্পাইক তৈরি করে আবার মিলিয়ে...

যমুনার বৃত্তান্ত: মর্মরের কারাগার

  যমুনার বৃত্তান্ত: মর্মরের কারাগার খিলানের পর খিলান। মর্মরের পর মর্মর। বাতাস এখানে আত্তার আর ষড়যন্ত্রের গন্ধে ভারী। এই ঘরটা একটা খাঁচা। সোনার খাঁচা, হাতির দাঁতের কারুকাজ করা এক নিশ্ছিদ্র কারাগার। এই ঘরের জাফরি কাটা জানালা দিয়ে একটা নদী দেখা যায়। যমুনা। আমার কাছে ওটা নদী নয়, ওটা একটা সম্ভাবনা। একটা তরল পথ যা এই দুর্গ, এই শহর, এই সুলতানিকে পাশ কাটিয়ে বয়ে চলেছে অনন্তের দিকে। আমি, জাহানারা, দিল্লির সুলতানের মেয়ে, এই জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনের পর দিন। ঋতুর পর ঋতু। আমার চোখ যমুনার স্রোতের উপর দিয়ে ভেসে চলে যায়, দিগন্তে যেখানে আরাবল্লির ধূসর ছায়া আকাশকে ছুঁয়েছে, সেইখানে। আমার ইচ্ছে হয়, সব ছেড়েছুড়ে একটা ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হতে। বল্গা টেনে ধরতে। ধুলো উড়িয়ে যমুনা পার হয়ে যেতে। তারপর আরাবল্লির পাথুরে জমিতে ঘোড়ার খুরের শব্দ তুলে হারিয়ে যেতে এমন কোনো মুলুকে, যেখানে আমাকে কেউ ‘শাহজাদী’ বলে না, যেখানে আমার পরিচয় আমার শরীরে নয়, আমার ইচ্ছের স্বাধীনতায়। কিন্তু ইচ্ছে? শাহজাদীদের কি ইচ্ছে থাকতে আছে? আমাদের ইচ্ছেগুলো হেরেমের দেওয়ালের মতো উঁচু আর নীরব। আমার শরীরের দিকে তাকাই আমি। রে...

ইন্ডিয়া গেটের বৃত্তান্ত: ছায়ার খেলা

লুটিয়েন্স বৃত্তান্ত: অ্যালগরিদমের খেলা দিল্লি একটা সার্ভার। একটা করাপ্টেড সার্ভার। এর বাতাসে অক্সিজেন নয়, ভেসে বেড়ায় ডেটা প্যাকেট—কিছু এনক্রিপ্টেড, কিছু ওপেন-সোর্স, বেশিরভাগই ম্যালওয়্যার। যমুনা এখানে মরা নদী নয়, একটা লিকুইড কুলিং সিস্টেম যা এই শহরের পলিটিক্যাল সিপিইউ-কে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়, সমস্ত নোংরা আবর্জনা নিজের মধ্যে নিয়ে। আমি এই সার্ভারের একজন ব্যাক-এন্ড ডেভেলপার। আমার নাম আয়ান। লোকে বলে স্ট্র্যাটেজিস্ট। আমি বলি, আমি শুধু অ্যালগরিদম লিখি। এমন অ্যালগরিদম, যা মানুষের লোভ, ভয় আর নিরাপত্তাহীনতাকে ইনপুট হিসেবে নেয় আর আউটপুট হিসেবে দেয় ক্ষমতা। ক্লিন কোড? এথিক্যাল হ্যাকিং? ওসব লিঙ্কডইন প্রোফাইলের জন্য। এখানকার কোডবেসটাই হলো স্প্যাগেটি কোড—জটিল, নোংরা, কিন্তু কাজ করে। পার্লামেন্ট স্ট্রিটের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্র্যাফিক লাইটের লাল, হলুদ আর সবুজ—এগুলো সিগন্যাল নয়, এগুলো হলো একেকটা কন্ডিশনাল স্টেটমেন্ট: if ‘টাকা’ then ‘সবুজ’, else if ‘চাপ’ then ‘হলুদ’, else ‘লাল’। আমার বস, আমার সিইও, আমার বানানো সবচেয়ে সফল প্রোডাক্টের নাম ভাস্কর চৌধুরী। আজ দেশের হোম মিনিস্টার। পাঁচ বছর আগে ও ছ...

নদীহীনতায়

 নদীহীনতায় আমার নিজস্ব একটা নদী আছে। সে কোনো গুগল ম্যাপে নেই, জিপিএস ট্র্যাকারে তার অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ ধরা পড়ে না। কোডের গভীরে যখন সিনট্যাক্স এরর খুঁজতে খুঁজতে রাত কাবার হয়ে যায়, তখন সেই নদী আমার মস্তিষ্কের নিউরনে নিউরনে বয়ে যায়। তিস্তা। উত্তরবঙ্গের শিরা-উপশিরায় বয়ে চলা এক পাগলাটে সবুজ জল। সেই জলের ভিতরে ভাসতে থাকে শৈশবের জলপাই রঙের স্মৃতি, কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে তাকিয়ে থাকা আমাদের মাটির বাড়ির উঠোন। আর এখানে? এখানে আছে কংক্রিটের জঙ্গল, সেক্টর ফিফটি সিক্স, গুড়গাঁও। এখানে কাঞ্চনজঙ্ঘা নেই, আছে ডিএলএফ সাইবার হাবের নিওন আলোয় মোড়া ধাতব চূড়া। এখানে তিস্তা নেই, আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসের ভিতর রিসার্কুলেটেড বাতাস আর কফি মেশিনের হিসহিস শব্দ। এমন এক ভার্চুয়াল ইকোসিস্টেমে আমি, জলপাইগুড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ভাসতে থাকা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। আমার রুট সার্ভার পড়ে আছে উত্তরে, আর আমি এক অফশোর ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে কম্পাইল হয়ে চলেছি প্রতিদিন। স্নিগ্ধা ছিল এই কংক্রিটের জঙ্গলের সবচেয়ে সুন্দর অর্কিড। born and brought up in NCR Delhi। ওর চলনে গল্ফ কোর্স রোডের মসৃণতা, ওর কথায়...