Posts

Showing posts from October, 2025

আরশি

দিল্লি অঞ্চলে আছি ৩০ বছর । এই অঞ্চলে কাজ করতে দূর পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা । এটাকে পরিযায় বলে । যাযাবর ঠিক নয় । প্রবাস  বলা যায় ।  অনেক বাঙালি এসেছেন ।  আমরা আছি তেত্রিশ ফুটা নামের গলিতে । এটা দিল্লির বাঙালি কলোনি । এখানে আমাদের সুখের দুখের বাসভূমি । অনেকে হয়তো বাংলায় ফিরে যাবে, তবে আমি যাবো না । এই মাটিকেই আমি বাসভূমি বলে মেনেছি । এখানেই থেকে যাবো ।।   তেত্রিশ ফুটা নামের গলির উপর কবিতা লিখে দিন । কিছু উদাহরন দিলাম । এখান থেকে শব্দচয়ন ও কবিতা শৈলী বুঝে কবিতাগুলি লিখতে হবে । আরশি দেখেছো পালাম পাপ্পানকালান ঐ রাইসিনা গাঁও মস্তক থেকে কে কার ঘোমটা সরাবে তেত্রিশ ফুটে হেঁটে যায় ফুটে ফুটে সোলাংকি তনয়া এক ফুঁ হাওয়া দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া ওড়না রাস্তার শেষে এক ঠাকুমা কিনছেন পান সুপারি, তার আঙুলে লেগে থাকে কবিতার লবণ— এই পথে হাঁটে তিনজন, পায়চারি করে অসংখ্য ছায়া— কেউ জাঠ, কেউ বা পূর্ববঙ্গ এর ভিতর সীসা এর ভিতর এক আরশি দিল বালা দিল বালা দিল্লির ভেঙে যাওয়া সড়কে রং থেকে , রূপ থেকে ঝরে যাওয়া অপূর্ব সে এক সময় পালক । -------- বহিরাগত নীল থেকে মেঘ থেকে মুছে ফেলেছো তার ছায়া আলতো আঁচড়ে নিয়েছো কপালের...

লীলা মজুমদার - আনন্দের জগৎ

লীলা মজুমদার - আনন্দের জগৎ পীযূষকান্তি বিশ্বাস   বাংলা ভাষার আকাশে শিশুসাহিত্যের নক্ষত্রমালা বহু প্রাচীন। সেখানে ঠাকুরমার ঝুলি , গোপালভাঁড় , সন্দেশ– এসব আমাদের এক অদৃশ্য সেতুতে বেঁধে রেখেছিল শৈশবের সঙ্গে। কিন্তু এই আকাশের এক বিশেষ মুহূর্তে , এক শান্ত অথচ দৃঢ় অথরিটি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন লীলা মজুমদার— যেন গোধূলিবেলায় খোলা মাঠে হঠাৎ উড়ে আসা এক বর্ণিল ঘুড়ি , যার রঙের ভিতরে লুকানো ছিল কেবল শিশুদের হাসি নয় , বরং কল্পনার মুক্ত আকাশ।   লীলা মজুমদারের কাছে সাহিত্য মানেই ছিল আনন্দময় যোগাযোগ। যোগাযোগ— কেবল লেখক ও পাঠকের মধ্যে নয় , বরং পাঠক ও পাঠকের মনে জেগে ওঠা সেই অন্য দুনিয়ার মধ্যে। যেন গল্প পড়তে পড়তে শিশুটি ধীরে ধীরে খেয়াল করছে— তার বাস্তব জীবন আর কল্পনার জীবন , আলাদা হলেও , এক নরম সুতোর সঙ্গে বাঁধা।   তিনি বিশ্বাস করতেন , শিশুর মনকে কোনো গাম্ভীর্যের সাপ্লাই দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া নয় , বরং তার ভিতর লুকোনো খেলাকে নাড়া দিতে হবে। পাঠকের মনে কল্পনার নরম দরজা খুলে দিতে হবে এমনভাবে , যে দরজা দিয়ে হাওয়া ঢুকে আসে , ঘ্রাণ আসে , রঙ উড়ে আসে— কখনো অসম্ভব , কখনো দুঃখ , কিন্তু সবসময়ই জীবন্ত।...