আরশি
দিল্লি অঞ্চলে আছি ৩০ বছর । এই অঞ্চলে কাজ করতে দূর পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা । এটাকে পরিযায় বলে । যাযাবর ঠিক নয় । প্রবাস বলা যায় । অনেক বাঙালি এসেছেন ।
আমরা আছি তেত্রিশ ফুটা নামের গলিতে । এটা দিল্লির বাঙালি কলোনি । এখানে আমাদের সুখের দুখের বাসভূমি । অনেকে হয়তো বাংলায় ফিরে যাবে, তবে আমি যাবো না । এই মাটিকেই আমি বাসভূমি বলে মেনেছি । এখানেই থেকে যাবো ।।
তেত্রিশ ফুটা নামের গলির উপর কবিতা লিখে দিন । কিছু উদাহরন দিলাম । এখান থেকে শব্দচয়ন ও কবিতা শৈলী বুঝে কবিতাগুলি লিখতে হবে ।
আরশি
দেখেছো পালাম পাপ্পানকালান ঐ রাইসিনা গাঁও
মস্তক থেকে কে কার ঘোমটা সরাবে
তেত্রিশ ফুটে হেঁটে যায় ফুটে ফুটে সোলাংকি তনয়া
এক ফুঁ হাওয়া দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া ওড়না
রাস্তার শেষে এক ঠাকুমা কিনছেন পান সুপারি,
তার আঙুলে লেগে থাকে কবিতার লবণ—
এই পথে হাঁটে তিনজন,
পায়চারি করে অসংখ্য ছায়া—
কেউ জাঠ, কেউ বা পূর্ববঙ্গ
এর ভিতর সীসা
এর ভিতর এক আরশি
দিল বালা দিল বালা দিল্লির ভেঙে যাওয়া সড়কে
রং থেকে , রূপ থেকে ঝরে যাওয়া
অপূর্ব সে এক সময় পালক ।
--------
বহিরাগত
নীল থেকে
মেঘ থেকে মুছে ফেলেছো তার ছায়া
আলতো আঁচড়ে নিয়েছো কপালের দখলদারি
এই সন্ধ্যায় রাস্তা হয়ে ওঠে খতিয়ান—
এপাশে আলু, ওপাশে সময় বিক্রি হয়
এক শিশু খড়ি দিয়ে ট্রেন আঁকে,
পায়ের তলায় মুছে ফেলে
কবিরা তর্ক করে অযথা এই বাঙালি পাড়ায়
নাগরিকতা মানে কি ভাষা নাকি ঋণ
যতকিছু হতে পারে ভোগ্য জায়গির জেনেও
এক পশলা বৃষ্টি স্বত্বেও এই পাড়ায়
কুসুম কুসুম ডিম এই ভোরবেলা
দুয়ারপ্রদেশে তবু লিখে রাখা হবে
বহিরাগত ।
-----------
দিলবালে
এই নেই, এই আছি , এই আমাদের পাখি
দানায় দানায় লেখা আছে যেথা চঞ্চুচিহ্নমালা
চকচকে ক্ষুধার কাছে এই আঁখি,
এই সমর্পণ
তেত্রিশ ফুটায় দাপিয়ে বেড়ানো পদ্য সমূহে
লিখে ফেলা তিন পাতা রোমহর্ষক
অক্ষরের আর্তি আছে , এই আছি, এই পায়রা
দিল্লি দিলবালে কা,
কা কা খা খা আবর্ণ উড়িয়ে দেওয়া জাঠ যুবকের
বাইকের ধুলোয় অস্বচ্ছ চোদ্দ ডেসিবল
সজোরে পড়ার আছে কত যে পংক্তিমালা
এই আমাদের চড়ুই,
এই আমাদের ভাতি
দূর প্রদেশ থেকে অলক্ষ্যে উড়ে আসা কাক
ঠিকানায় কেয়ার অফ প্রাণজি বসাক ।
----------
কৃষ্ণকলি
ফেটে গেলো ৩৩ ফুট
চৌচির চৌত্রিশে এখনো বাগিচায় গেন্দা হলুদ
ঘটনা ফুটে আছে জনজুথিকা জুড়ে
চিত চিত দৌড় মানে চিতাবাঘ নয়
এমনিই মারীচ মারীচ বলে দৌড়ে ছুটে যাই
হে বাচিক, পশ্চিম কখনো একা বঙ্গ হয় না
দিক ভ্রষ্ট হালদারের মাছের দোকানে
এই মাঘে খবর হয়ে গেছে
দেহ সর্বসব বহু কবিতার প্রবাস ফুটে আছে
জুলাই আগস্টের ম্যাংগো শেক নিয়ে
দু কথা বলুন হে শিথিল প্রণব দত্ত ।
এদেশ আমার না
ক্ষুধাপ্রান্তে কুড়িয়ে নিয়েছে পরিযায় জেনো
পরিযায়ী তুমিও, পরিযায়ী আমিও
নাতি দীর্ঘ ৩৩ ফুট্টায় আমাদের পদযুগলের
গভীর কৃষ্ণকলি ফুটে আছে ।
-----------
দিলবালে
এই নেই, এই আছি , এই আমাদের পাখি
দানায় দানায় লেখা আছে যেথা চঞ্চুচিহ্নমালা
চকচকে ক্ষুধার কাছে এই আঁখি,
এই সমর্পণ
তেত্রিশ ফুটায় দাপিয়ে বেড়ানো পদ্য সমূহে
লিখে ফেলা তিন পাতা রোমহর্ষক
অক্ষরের আর্তি আছে , এই আছি, এই পায়রা
দিল্লি দিলবালে কা,
কা কা খা খা আবর্ণ উড়িয়ে দেওয়া জাঠ যুবকের
বাইকের ধুলোয় অস্বচ্ছ চোদ্দ ডেসিবল
সজোরে পড়ার আছে কত যে পংক্তিমালা
এই আমাদের চড়ুই,
এই আমাদের ভাতি
দূর প্রদেশ থেকে অলক্ষ্যে উড়ে আসা কাক
ঠিকানায় কেয়ার অফ প্রাণজি বসাক ।
----------
কৃষ্ণকলি
ফেটে গেলো ৩৩ ফুট
চৌচির চৌত্রিশে এখনো বাগিচায় গেন্দা হলুদ
ঘটনা ফুটে আছে জনজুথিকা জুড়ে
চিত চিত দৌড় মানে চিতাবাঘ নয়
এমনিই মারীচ মারীচ বলে দৌড়ে ছুটে যাই
হে বাচিক, পশ্চিম কখনো একা বঙ্গ হয় না
দিক ভ্রষ্ট হালদারের মাছের দোকানে
এই মাঘে খবর হয়ে গেছে
দেহ সর্বসব বহু কবিতার প্রবাস ফুটে আছে
জুলাই আগস্টের ম্যাংগো শেক নিয়ে
দু কথা বলুন হে শিথিল প্রণব দত্ত ।
এদেশ আমার না
ক্ষুধাপ্রান্তে কুড়িয়ে নিয়েছে পরিযায় জেনো
পরিযায়ী তুমিও, পরিযায়ী আমিও
নাতি দীর্ঘ ৩৩ ফুট্টায় আমাদের পদযুগলের
গভীর কৃষ্ণকলি ফুটে আছে ।
Comments
Post a Comment