DESH

 দেশ একটি সামগ্রিক ব্যাপার । আর বিশ্বসমাজ একটি প্রতিযোগিতা ক্ষেত্র ।এখানে আপনি যদি বলেন আমাদের দেশের কিছু লোক প্রগতি চায় এই রকম ভাবেন, সেটা দেশের ইচ্ছা হলো না । অল্প কিছু লোকের ইচ্ছা । কিংবা সবারই ইচ্ছা কিন্তু তার জন্য যথেষ্ট হাঁটতে মানুষ প্রস্তুত না । 


আধিপত্যবাদঃ কোথায় নেই ? ফোন ব্যাবহার করেন ? এখানে দক্ষিন কোরিয়ার আধিপত্য । ফেসবুক ব্যাবহার করেন ? আমেরিকার আধিপত্য । ইলেক্ট্রনিকে, চাইনিজ আধিপত্য । 


প্রগতি কে না চায় ? কিন্তু প্রগতির জন্য প্রাথমিক ভাবে দেখে নিই কয়েকটা জিনিস লাগে । 

১) প্রাকৃতিক সম্পদ

২) মানব সম্পদ 

    ২-১) মেধা ও উৎকর্ষতা

    ২-২) স্কিলস বা ট্রেইনিং

    ২-৩) কোলবোরেশন বা যুগ্মপ্রয়াস



মধ্যযুগীয় পরিবেশে আমরা দেখেছি প্রাকৃতিক সম্পদ, সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মিয়করণ । মানব সম্পদ ডেভেলপমেন্ট আমরা কয়েকটি দেশেই আবদ্ধ দেখেছি । নানান পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৯০০ পরবর্তী সালের পরবর্তী সময়ে 'স্কিলস বা ট্রেইনিং পৃথিবীর কোনে কোনে পৌছে গেছে । ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কালে আমরা দেখছি কোলেবোরেশনের যুগ । অর্থাৎ যুগ্মপ্রয়াসের যুগ । যে স্কিল যে দেশের নাই, তারা সেই স্কিল ডেভেলপ করার জন্য অন্য দেশের সংগে কোলাবোরেট করছে । এতে প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে । মানব উন্নয়নের অনেক ডিভাইস এইভাবে তৈরি হয়েছে ।  


আর এখন কার যুগ হিসাবে বলা যায়, মেধা ও উৎকর্ষতার যুগ । একক প্রচেস্টায় অনেক মানুষ নিজ নিজ দেশে স্কিল ডেভেলপ করে চলেছে । কিন্তু তা একটি সামগ্রিক রূপ তখনই নেয় যখন তার জনগোষ্ঠির বৃহৎ অংশ মেধা ডেভেলপমেন্টের ভিতর দিয়ে যায় । দেশ বিশ্বচরাচরে বিভিন্ন ফোরামে নিজের মেধা ও দক্ষতায় সমীহ আদায় করে । দেশ তখনই উন্নত বলা চলে যখন দেশে শিক্ষা সংস্কৃতি কলা সাহিত্যে উন্নতিতে পৌঁছায় । 


এখন সবসময় এইভাবে বিশ্বসমাজ চলে না । এক উচ্চ জায়গায় মানুষ চলে গেলে , একটু যারা নীচে আছে, তাদের তাচ্ছিল্য করে । আমার মনে হয় এখানে মানুষ এখানে একটু সেন্টিমেন্টাল হয়ে যায় । সেখানে তারা দুটি কাজ করতে পারেঃ


১) নিজেকে উচ্চে তুলে নিয়ে আসা

২) তাচ্ছিল্যকে নজরনান্দাজ করে এড়িয়ে যাওয়া

৩) অন্যকে উচ্চ থেকে নীচে নামানো 


২) নাম্বার হলো 'তাচ্ছিল্যকে নজরনান্দাজ করে এড়িয়ে যাওয়া' সব থেকে সহজ । কিন্তু তা অসম্ভব হয়ে ওঠে । কারন, বিশ্বসমাজে 'গ্লোবাল' হয়ে উঠতে চাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা সবার থাকে । ক্রমাগত নানান ফোরামে নিজেদেরকে প্রমাণ করে জাতে উঠতে চায় সবাই । এইখানে, ভারতকে অনেক তাচ্ছিল্য করেন আমেরিকা । ভারতের স্পেস প্রোগ্রাম নিয়ে প্রচুর মিম বা কার্টুন বানায় আমেরিকা । ভারত কি করতে পারে ? ৩) 'অন্যকে উচ্চ থেকে নীচে নামানো' এটা পারে না । ১) 'নিজেকে উচ্চে তুলে নিয়ে আসা' খুব কঠিন কাজ । ভারত কি তাই করতে চায় ? নাকি, নিজেদেরকে খুশী করার জন্য একটা সেটলমেন্ট করতে চায়ঃ "এই বেশ ভালো আছি" । এই রকম একটা ন্যারেটিভ দেশে সেই দেশের রাষ্ট্র নেতারা করে থাকেন । অনেক সময় গদি বাঁচিয়ে রাখার জন্যও সেটা জরুরী ।


এইটুকু আমি বুঝতে পেরেছি বা বলা যায় আমার উপলব্ধিঃ 


এখন,আমার এই বোঝাবুঝি বা সূত্রগুলি ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে খাটছে না । আমরা যেহেতু বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলাদেশের আমাদের ভাষা ভিত্তিক আত্মীয়রা রয়েছেন । আমাদের অনেকেরই পূর্বপুরুষের জন্ম একই ভৌগলিক স্থানে যেটাকে আমরা বাংলাদেশ বলছি । আমাদের কাছে বাংলাদেশের হালহকিকত নিয়ে ভাবনা চিন্তার থাকে । পড়শীদেশ হিসাবেও থাকে । এবং ভারত নিয়েও নিশ্চয় বাংলাদেশের জনগণের সেটা থাকবে । 


এবার বলি, আমার নিজের ভাবনার সংগে কোথায় কোথায় বিরোধ হচ্ছে । 


১) ভারত ও বাংলাদেশ , পড়শী - নিজের নিজের মতো থাকলে ঠিক আছে । নিজের ঘরে তালা মেরে যে যার সংগে কথা না বলে থাকলে, বেশ থাকা যায় ।

২) এই যে ভারত ভাবছে, বাংলাদেশের উন্নতি দরকার, তাকে সাহায্য দরকার । এখানে একটু সমস্যা হচ্ছে । বাংলাদেশ কি চাইছে ভারত এসে সাহায্য করুক ? শেখ হাসিনা চাইছিলো, এখন বাংলাদেশ চাইছে না । 

৩) বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একটা গণতান্ত্রিক অস্থিরতার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে । সেদেশের নির্বাচিত সরকার না হলে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না , বাংলাদেশ কি চায় । দেশ একটি সামগ্রিক ব্যাপার । কারো চাওয়াকে অন্যের চাওয়া বলে চাপিয়ে দেওয়া যায় না । এটাই গণতান্ত্রিক অস্থিরতা । এটাই অরাজকতা । মানুষ খুবই ডাইভার্স, এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেয় । রাজনৈতিক অস্থিরতার না থাকার একটি উদাহরণ হলোঃ সে দেশে সামরিক ক্ষমতার উত্থান । এর জন্য, কে দায়ী, কি তার রুট কজ, তা আমার আলোচনার বাইরে ।


৪) মেধা ভিত্তিক প্রতিযোগীতায় না গিয়ে দেখছি,তারা ধর্ম ভিত্তিক প্রতিযোগীতার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে । এটা কোনদিন কি কোন উপসংহারে যাবে ? মেলানো যাচ্ছে না ।


৫) বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ভারতের একটা আধিপত্য বাংলাদেশের মানুষের আঘাত করে চলেছে । সেটা ক্রিকেট নিয়ে হোক, বা অন্যান্য ডেভেলপমেন্ট । যেখানে বাংলাদেশ পার ক্যাপিটা ইনকামে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে । তার জন্য তারা বাহবা পাচ্ছে না । অবশ্য বাংলাদেশের ইকোনমী ডেভেলপমেন্ট , আবার বাংলাদেশের কাল হয়ে দাড়িয়েছে । ইকোনমী ডেভেলপমেন্ট করতে গিয়ে আমদানী, রফতানী, বিদেশী মুদ্রা সংগ্রহের জন্য নানান দেশের সঙ্গে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে । সেটা এতো ছড়িয়ে গেছে যে গোটানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে । সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেই কাঠগড়ায় এখন ।  


অল্প কিছু লেখা গেলো । আরো লেখা যায় । আলোচনার পরিসর ছোট রাখার জন্য, এইটুকুই যথেষ্ট । এখন গা জোয়ারী ভাবে আমি কিছু মানি না । আমি স্বাধীন দেশ, আমি আমার মতো থাকি এটা বলাই যায় । কিংবা ভারতের রাজনৈতিক ভাবে বোঝাপড়া করে 'দেখে নেবো' বলা যায় । জাতির উন্নতি প্রকল্পে দুপা যদি এগোনোর জন্য এক পা পিছিয়ে যেতে হলে , যাওয়া উচিত, কিন্তু পিছন দিয়ে হাঁটা ঠিক না । 


ORajakota: When you plan something bilaterally thinking all pros and cons. Take an agreenent to grow each other. Two party take oath and start working together to meet the goal.


All of the sudden one party disappears. There is no presentative of that party. There is no decision makers. The power politics prevails and there is no face of belief of a common man. Example: Pakistan. When we thought we can start discussing issues with Imran, he govt broken, he is now in jail. Next election his party won the majority but they are banned ? This is called Orajakota.


One person need to stand and deliver. Else take the responsibility of the failure. 



  



যুগ পালটে যায়, আমাদেরকে সেটা মেনে নিতে হবে । বাংলাদেশ এখন স্বাধীন দেশ । তাদের ইচ্ছা আকাংখা আছে । সেটা তারা নিজেরা অর্জন করতে চায় । সেই জায়গাটা দখল করা চলে না । ঠিক সেই ভাবে, বাংলাদেশ সার্বভৌমতার কারনে অন্য দেশকে সে দেশে ব্যাবসা বানিজ্য পরিকাঠামো ডেভেলপমেন্টে কোলাবোরেশন না করলে তার ইকোনমী গড়ে ওঠে না। বাংলাদেশের জন্য যে স্বচ্ছতা দরকার, তা মনে হয় সে দেশের জনতা কাছে নেই । উপরন্তু, স্কিল ডেভেলপ মেন্ট, উন্নত মেধা ভিত্তিক প্রতিযোগীতার জায়গায় আসতে বাংলাদেশের আরো সময় লাগবে ।







   

 


   


Comments

Popular posts from this blog

যমুনার বৃত্তান্ত: মর্মরের কারাগার

লেখকের নিয়তি

লীলা মজুমদার - আনন্দের জগৎ