PIJUSH BISWAS
Please write a 4000 words biography of Pijush Kanti Biswas (পীযূষকান্তি বিশ্বাস) in Bengali Language, a poet crititic and editor based on the following facts about him.
PIJUSH BISWAS
Poet, Critics, Editor
PROFILE
Pijush Biswas is a poet from New Delhi and writes his poetry in Bangla language. His root lies in West Bengal, India. He continued the literary works from New Delhi when he started living there. During his long literary journey, he was associated with the development of little magazines in Palam Delhi locality. He started his sahitya journey from Mahavir Enclave, New Delhi. Edited a few magazines and published his poetry collection from within Delhi NCR.
He attended a notable SAARC Literature festival as Poet, featured in list of the poets in Delhi bookfair and Kolkata Bookfair.
PUBLISHED BOOKS
AkashChumban
Publisher: Abhijan, Kolkata
Year: 2016
A collection of poems.
Ghumghar (Poems)
Publisher: Delhi Haaters, New Delhi
Year: 2014
A collection of poems.
Bada Noi Rokto (Poems)
Published: Computer Printout
Year: 2008
A collection of poems.
MAGAZINE
Dehlij
2018 - Current
Editor, Web Magazine, later published in a print as Selected Dehlij
Shunyakal
2016 2018
Web Magazine started & edited by Dipankar Dutta, continued editing after demise of the Editor.
Pratibha Pathikrit
2012-2016
Magazine was published from Palam Colony. Edited by Gopal Chandra Pal, have been patronized the magazine.
Kathanjali
2002 2012
The magazine was published from Mahavir Enclave. Edited by Dilip Kumar Banerjee, have been played various role to publish the magazine.
Digangan
2016 2017
Leading Bengali Magazine from Delhi NCR by Bengal Association. Have been a member of group of editors in Digangan for a small tenure.
INTERNATIONAL VISITS
USA (MICIGAN) 2007: OFFICIAL TOUR OF INFOGAIN
UK (LONDON) 2008: OFFICIAL TOUR OF PEROT SYSTEM
USA (ROUN ROCK, TEXAS)-2012: OFFICIAL TOUR OF DELL
BANGLADESH(Chattogram) 2023: Literature Tour, Sahitya Utsav
PROFESSION
Worked in Indian Air Force at the beginning of the career. Being a technical trade, he has been posted as technical personnel with air defense operation and later he moved to cartography job. Being a computer specialist, he developed many software systems from EDP cell.
After retiring from Indian Air Force, he joined IT Industry with Multinational company called Infogain. He visited London with official tour and gained international exposure. He later moved to another company named Dell. Then he visited the USA to build clouds for the company. Later he came back to India and subsequently joined another American company IBM as cloud architect. He works there currently. Having 3 Patents to his name shows his notable contributions to humanity.
FAMILY
FATHER:
Jnanendra Nath Biswas
MOTHER:
Karunamayee Biswas
SPOUSE:
Beauty Biswas
SON:
Rijusmit Biswas
CONTACT
PHONE:
+91 9871603930
WEBSITE:
https://dehlij.blogspot.com
EMAIL:
softestpk@gmail.com
LIFE EVENTS
CHILDHOOD: BIRTH (15 MAY 1975 )
Village: Pratapgarh, Post Office: Hat Bahirgachi, District: Nadia, West Bengal. A beautiful village with a lot of greens and playgrounds. I played cricket in Bahirgachi team as regular member, occasionally played with Bagula cricket team.
MATRIC: 10 CLASS (JUN-1990 )
Passed Secondary Education Madhyamic from Bahirgachi High School.
JOB: BANGALORE ( Feb 1993 )
Joined first job at Indian Air Force at Jalahalli, Bangalore as ADSO. Later on
Posted to Jammu and Kashmir as an Airman to 23 Wing AF.
POSTING: DELHI ( OCT 1998 ):
Posted to Palam, Air Force, New Delhi. Enrolled in MCA from IGNOU.
BEING HUSBAND: MARRIAGE (JUL 2000)
Married to Beauty Biswas, Daughter of Ramesh Dutta from Bagula.
POET: FIRST POEM : Delhi (MAY 2002)
Published first Bengali poem in Kathanjali , a magazine published from Mahavir Enclave.
MASTER DEGREE: MCA (JUNE 2003)
Passed Master Degree ( MCA ) from Indira Gandhi National Open University.
BEING FATHER: SON (JUN 2004)
Rijusmit has born in 2004 in Kolkata command hospital. Posting was at Jaisalmer, Air Force.
RESIDENT: MAHAVIR ENCLAVE (APR 2005):
Moved to Mahavir Enclave in a rented home, later bought a new flat in Bengali Colony, Mahavir Enclave, New Delhi-110045. Became regular contributors to Bengali Sahitya Activity on Mahavir Enclave. Handled Sahityabasar at different place.
BOOK: BADHA NOI ROKTO ( FEB 2008 )
Printed first book from computer printout. The preface penned down by Editor of Kathanjali , Dilip Kumar Banerjee.
GROUP: DELHI HATTERS ( DEC 2012 )
Introduced to Delhi Hatters with Dipankar Dutta and Dilip Foujdar. Met with Arup Choudhury, Krishna Mishra Bhattacharya, Agni Roy.
BOOK: GHUMGHAR ( MAR 2014)
Published 2nd Book from Delhi Hatters, published by Dilip Foujdar
BOOK: AKASHCHUMBAN ( FEB 2016 )
Published AkashChumban from Avijan Publishers, Kolkata.
EDITOR: SHUNYAKAL ( FEB 2017 )
Edited magazine after demise of Dipankar Dutta.
EDITOR: DEHLIJ ( 2018- Current)
A new Web Magazine started , called DEHLIJ, later being also printed in hard copy books.
OTHER ACTIVITIES: Writing Poetry, Automating Software Systems for Bengali Poetry Development.
Helped Dipankar Dutta to develop Shunyakal Web Magazine
Conceptualized Dehlij and Launched new a web magazine. Which also published as printed Magazine
Created Lipika software to type unicode in Bengali language. This uses English Keyboard.
Developed Computer Aided Poetry software for Bengali language.
Achievement: Had technical passion and awarded 3 Patents for new inventions by USPTO. Written 10 publications and papers.
Achievement: Guest Lecturerer at Gurgram University
পীযূষকান্তি বিশ্বাস: কবি, সমালোচক ও সম্পাদকের জীবনকথা
প্রারম্ভিক জীবন ও শৈশব
পীযূষকান্তি বিশ্বাসের জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৫ মে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার প্রতাপগড় গ্রামে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ছিল হাট বহিরগাছি গ্রামে, যা সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। শৈশবেই প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা পীযূষের মনে কবিতার বীজ রোপিত হয়েছিল। গ্রামের মাঠে ক্রিকেট খেলায় তিনি ছিলেন নিয়মিত অংশগ্রহণকারী, বহিরগাছি দলের পাশাপাশি বাগুলা ক্রিকেট দলের সাথেও খেলতেন।
শৈশবেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। বহিরগাছি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পাশ করার পর, তাঁর জীবনযাত্রায় আসে নতুন মোড়।
প্রাথমিক কর্মজীবন: ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যোগদান
১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পীযূষকান্তি বিশ্বাস তাঁর প্রথম চাকরিতে যোগ দেন ভারতীয় বিমানবাহিনীতে। জালাহাল্লি, ব্যাঙ্গালোরে তাঁর প্রথম পোস্টিং হয় এডিএসও (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অপারেটর) হিসেবে। পরে তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরের ২৩ উইং এয়ার ফোর্সে বদলি করা হয়।
১৯৯৮ সালের অক্টোবরে তিনি দিল্লির পালামে পোস্টেড হন। এই সময়ে তিনি ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইগ্নু) থেকে এমসিএ (মাস্টার্স ইন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন) পড়াশোনা শুরু করেন।
ব্যক্তিগত জীবন: বিবাহ ও পরিবার
২০০০ সালের জুলাই মাসে তিনি বাগুলার রমেশ দত্তের কন্যা বিউটি বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৪ সালের জুন মাসে কলকাতা কমান্ড হাসপাতালে তাঁদের পুত্র রিজুস্মিত বিশ্বাসের জন্ম হয়। এই সময় পীযূষকান্তি জয়সলমারে পোস্টেড ছিলেন।
২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি দিল্লির মহাবীর এনক্লেভে একটি ভাড়া বাসায় উঠেন এবং পরবর্তীতে বাংলা কলোনিতে একটি ফ্ল্যাট কিনে স্থায়ী হন। মহাবীর এনক্লেভে বসবাসকালে তিনি বাংলা সাহিত্য চর্চায় নিয়মিতভাবে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
সাহিত্য যাত্রার সূচনা
২০০২ সালের মে মাসে মহাবীর এনক্লেভ থেকে প্রকাশিত 'কথাঞ্জলি' পত্রিকায় তাঁর প্রথম বাংলা কবিতা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দিলীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পীযূষকান্তি পত্রিকাটি প্রকাশনায় বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেন।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বাধা নয় রক্ত' কম্পিউটার প্রিন্টআউট থেকে প্রকাশ করেন, যার ভূমিকা লিখেছিলেন কথাঞ্জলির সম্পাদক দিলীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাব্যগ্রন্থ ও সাহিত্যকর্ম
পীযূষকান্তি বিশ্বাসের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
বাধা নয় রক্ত (২০০৮) – কবিতাসংগ্রহ
ঘুমঘর (২০১৪) – দিল্লি হ্যাটার্স থেকে প্রকাশিত কবিতার বই
আকাশচুম্বন (২০১৬) – কলকাতার অভিযান প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত
তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, মানবিক সম্পর্ক ও আধুনিক জীবনের জটিলতা ফুটে উঠেছে।
পত্রিকা সম্পাদনা ও সাহিত্য আন্দোলনে ভূমিকা
পীযূষকান্তি বিশ্বাস দিল্লি এলাকায় বাংলা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নিম্নলিখিত পত্রিকাগুলির সাথে যুক্ত ছিলেন:
কথাঞ্জলি (২০০২-২০১২) – মহাবীর এনক্লেভ থেকে প্রকাশিত, দিলীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত
প্রতিভা পথিকৃত (২০১২-২০১৬) – পালাম কলোনি থেকে প্রকাশিত, গোপাল চন্দ্র পালের সঙ্গে যুক্ত
দিগঙ্গন (২০১৬-২০১৭) – দিল্লি এনসিআরের বঙ্গ সমিতির পত্রিকা, সম্পাদক গোষ্ঠীর সদস্য
শূন্যকাল (২০১৬-২০১৮) – দীপঙ্কর দত্তের ওয়েব ম্যাগাজিন, তাঁর মৃত্যুর পর পীযূষকান্তি সম্পাদনার দায়িত্ব নেন
দেহলিজ (২০১৮-বর্তমান) – তাঁর নিজস্ব ওয়েব ম্যাগাজিন, যা পরে প্রিন্ট সংস্করণেও প্রকাশিত হয়
আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও সাহিত্য সফর
পেশাগত জীবনে পীযূষকান্তি বিশ্বাস বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন:
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র (২০০৭) – ইনফোগেইন কোম্পানির অফিসিয়াল ট্যুর
লন্ডন, যুক্তরাজ্য (২০০৮) – পেরট সিস্টেমের অফিসিয়াল ট্যুর
রাউন্ড রক, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র (২০১২) – ডেল কোম্পানির কাজ
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ (২০২৩) – সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণ
পেশাগত জীবন: তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদান
ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর পীযূষকান্তি বিশ্বাস আইটি শিল্পে যোগ দেন। তিনি ইনফোগেইন, ডেল এবং আইবিএম-এর মতো বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আইবিএম-এ ক্লাউড আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত।
তিনি একজন দক্ষ কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এবং বাংলা সাহিত্যের ডিজিটাল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত সফটওয়্যারগুলির মধ্যে রয়েছে:
লিপিকা – ইংরেজি কিবোর্ডে ইউনিকোড বাংলা টাইপিংয়ের সফটওয়্যার
কম্পিউটার এইডেড পোয়েট্রি সফটওয়্যার – বাংলা কবিতা রচনায় সাহায্যকারী প্রোগ্রাম
তাঁর মোট ৩টি পেটেন্ট রয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দেয়।
সাহিত্যিক স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ
সার্ক সাহিত্য উৎসবে কবি হিসেবে অংশগ্রহণ
দিল্লি বইমেলা ও কলকাতা বইমেলাতে তাঁর কবিতা সংকলন উপস্থাপন
গুরুগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ
ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পৃক্ততা
পীযূষকান্তি বিশ্বাসের পরিবার:
পিতা: জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস
মাতা: করুণাময়ী বিশ্বাস
স্ত্রী: বিউটি বিশ্বাস
পুত্র: রিজুস্মিত বিশ্বাস
তিনি বর্তমানে দিল্লির মহাবীর এনক্লেভে বসবাস করছেন এবং নিয়মিতভাবে বাংলা সাহিত্য চর্চা ও সম্পাদনা করে চলেছেন।
যোগাযোগ
ওয়েবসাইট: https://dehlij.blogspot.com
ইমেইল: softestpk@gmail.com
ফোন: +৯১ ৯৮৭১৬০৩৯৩০
উপসংহার
পীযূষকান্তি বিশ্বাস একাধারে কবি, সমালোচক, সম্পাদক এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। দিল্লিতে বসবাস করেও তিনি বাংলা সাহিত্যের ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের অনুপ্রাণিত করছেন। তাঁর জীবনকথা শুধু একজন সাহিত্যিকেরই নয়, একজন বহুমুখী প্রতিভার আধুনিক মানুষেরও গল্প।
------------------
পীযূষকান্তি
বিশ্বাস: প্রযুক্তি ও কবিতার দ্বৈত সত্তার মেলবন্ধন
ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যের
বিশাল আকাশে প্রতিনিয়ত নতুন নক্ষত্রের উদয় হয়। কেউ আসেন ক্ষণিকের দ্যুতি ছড়িয়ে,
কেউ বা স্থায়ী আসন লাভ করেন আপন প্রতিভার ঔজ্জ্বল্যে। আধুনিক বাংলা
সাহিত্যের জগতে, বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালি সাহিত্যচর্চার
পরিমণ্ডলে, পীযূষকান্তি বিশ্বাস এক স্বতন্ত্র ও পরিচিত নাম।
তিনি একাধারে কবি, সমালোচক এবং সম্পাদক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া
জেলার মাটির গন্ধ গায়ে মেখে যাঁর শৈশব কেটেছে, কর্মজীবনের
সূত্রে তিনি থিতু হয়েছেন ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে। কিন্তু দূরত্ব তাঁর
সাহিত্যসত্তাকে এতটুকু ম্লান করতে পারেনি, বরং নতুন পরিবেশ,
নতুন অভিজ্ঞতা তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। নতুন
দিল্লিতে বসবাসকালে তিনি কেবল নিজের সাহিত্যচর্চাই অব্যাহত রাখেননি, একইসাথে রাজধানীর বুকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রসারে, বিশেষ করে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে, এক গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে চলেছেন। একদিকে তিনি যেমন একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত
এবং তিনটি আন্তর্জাতিক পেটেন্টের অধিকারী, অন্যদিকে তাঁর মন
পড়ে থাকে বাংলা কবিতার শব্দে, ছন্দে, ভাবে।
প্রযুক্তি ও কবিতার এই আপাত বিপরীতমুখী দুটি সত্তার সার্থক মেলবন্ধন ঘটেছে
পীযূষকান্তি বিশ্বাসের জীবনে ও কর্মে। তাঁর সাহিত্যযাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন
দিল্লির মহাবীর এনক্লেভ অঞ্চল থেকে, যা পরবর্তীতে পল্লবিত
হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বৃহত্তর পরিসরে। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা, তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এবং বিভিন্ন সাহিত্য সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ –
এই সবকিছু মিলিয়ে পীযূষকান্তি বিশ্বাস প্রবাসী বাংলা সাহিত্যের জগতে এক
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
জন্ম
ও বেড়ে ওঠা: প্রতাপগড়ের সবুজ প্রান্তর থেকে বহিরগাছির পথে
পীযূষকান্তি
বিশ্বাসের জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৫ই মে, পশ্চিমবঙ্গের
নদীয়া জেলার এক অখ্যাত কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রাম প্রতাপগড়ে। তাঁর
পিতার নাম জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং মাতার নাম করুণাময়ী বিশ্বাস। গ্রাম বাংলার
চিরায়ত সবুজ, খোলা মাঠ, পুকুর আর
দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেতের মধ্যেই তাঁর শৈশবের দিনগুলি কেটেছে। প্রতাপগড়ের নির্মল
বাতাস আর অফুরন্ত খেলার মাঠ ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। গ্রামের পোস্ট অফিস ছিল
নিকটবর্তী হাট বহিরগাছিতে, যা তাঁর জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে
জড়িয়ে পড়ে। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও মিশুকে। পড়াশোনার পাশাপাশি
খেলাধুলার প্রতিও ছিল তাঁর প্রবল আকর্ষণ। বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতি ছিল তাঁর অমোঘ
টান। তিনি নিয়মিত বহিরগাছি ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে খেলতেন এবং মাঝেমধ্যে
পার্শ্ববর্তী বগুলা ক্রিকেট দলের হয়েও মাঠে নামতেন। গ্রামের সেই
মুক্ত পরিবেশ, বন্ধুদের সাথে হইচই করে খেলাধুলার স্মৃতি তাঁর
কবিমনে গভীর রেখাপাত করেছে, যা হয়তো তাঁর পরবর্তীকালের
কবিতায় প্রকৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে ফিরে ফিরে এসেছে। গ্রামের সহজ সরল জীবনযাত্রা,
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ঋতুচক্রের
পরিবর্তন – এই সবকিছুই তাঁর সংবেদনশীল মনকে প্রভাবিত করেছিল। এই গ্রামীণ পটভূমিই
তাঁর ভিত্তি নির্মাণ করে দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে শহরের
ইট-কাঠ-পাথরের জীবনে এসেও তাঁকে শিকড়ের টান অনুভব করিয়েছে।
শিক্ষাজীবন
ও কর্মজীবনের সূচনা: বহিরগাছি থেকে ব্যাঙ্গালোর
গ্রামের পাঠশালায়
প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি ভর্তি হন বহিরগাছি হাই স্কুলে। পড়াশোনায় তিনি বরাবরই
মনোযোগী ছিলেন। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ১৯৯০ সালের জুন মাসে তিনি পশ্চিমবঙ্গ
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এই সময় থেকেই তাঁর
মধ্যে বহির্জগতের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হতে থাকে। বৃহত্তর পৃথিবীর হাতছানি
তাঁকে টানতে শুরু করে।
মাধ্যমিক পাশের পর
প্রথাগত উচ্চশিক্ষার পথে না হেঁটে তিনি নিজের কর্মজীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
মাত্র আঠারো বছর বয়সে, ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে,
তিনি এক নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমান সুদূর ব্যাঙ্গালোরে। সেখানে
তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার অধীনে জলাহাল্লিতে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অপারেটর (ADSO)
হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এটি ছিল তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ
মোড়। গ্রামের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ এক নতুন জায়গায়, নতুন
পেশায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেন। বায়ুসেনার কঠোর
নিয়মানুবর্তিতা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাঁর মধ্যে এক দৃঢ় মানসিকতা গড়ে ওঠে।
পরবর্তীকালে তিনি
এয়ারম্যান হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের তেইশ নম্বর উইং এয়ারফোর্স স্টেশনে নিযুক্ত হন।
এই পোস্টিং তাঁর জীবনে এনে দেয় ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একদিকে যেমন দেশের সুরক্ষার মতো এক
গুরুদায়িত্ব পালনের সুযোগ, অন্যদিকে তেমনই ভিন্ন একটি
রাজ্যের প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর মনোজগৎকে আরও প্রসারিত করে।
বায়ুসেনায় তাঁর কাজটি ছিল মূলত প্রযুক্তিগত (টেকনিক্যাল ট্রেড)। তিনি এয়ার ডিফেন্স
অপারেশনের সাথে যুক্ত প্রযুক্তিগত কর্মী হিসেবে কাজ করার পর কার্টোগ্রাফি বা
মানচিত্রাঙ্কনের কাজে নিযুক্ত হন। কম্পিউটার বিষয়ে তাঁর সহজাত আগ্রহ ও দক্ষতা ছিল।
এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বায়ুসেনার ইলেকট্রনিক ডেটা প্রসেসিং (EDP) সেলে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন সফটওয়্যার সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করেন,
যা তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিচায়ক।
দিল্লিতে
আগমন, উচ্চশিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনের নতুন
অধ্যায়
১৯৯৮ সালের অক্টোবর
মাস পীযূষকান্তি বিশ্বাসের জীবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। তিনি
বদলি হয়ে আসেন নতুন দিল্লির পালাম এয়ারফোর্স স্টেশনে। দেশের রাজধানীর বুকে তাঁর
জীবনের নতুন পর্ব শুরু হয়। একদিকে বায়ুসেনার দায়িত্বপূর্ণ কাজ,
অন্যদিকে দিল্লির কর্মব্যস্ত জীবন – এই দুইয়ের মাঝেও তিনি নিজের
জ্ঞানার্জনের স্পৃহাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি ইন্দিরা গান্ধী
ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে মাস্টার অফ
কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনস (MCA) কোর্সে ভর্তি হন। প্রযুক্তিগত
ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতাকে আরও শাণিত করার লক্ষ্যে তাঁর এই প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত
প্রশংসনীয়। বায়ুসেনার চাকরির পাশাপাশি দূরশিক্ষার মাধ্যমে এই উচ্চডিগ্রি অর্জন করা
নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল, কিন্তু তাঁর অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা তাঁকে
সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০০৩ সালের জুন মাসে তিনি সফলভাবে এমসিএ ডিগ্রি লাভ
করেন।
দিল্লিতে আসার পরই
তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ২০০০ সালের জুলাই মাসে তিনি
বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিউটি বিশ্বাসের সাথে। বিউটি বিশ্বাস নদীয়া জেলার বাগুলার
বাসিন্দা রমেশ দত্তের কন্যা। এই বিবাহ তাঁর জীবনে নিয়ে আসে এক পূর্ণতা।
২০০৪ সালের জুন
মাসে তাঁদের জীবনে আসে আরও এক আনন্দের মুহূর্ত। কোলকাতার কমান্ড হাসপাতালে তাঁদের
পুত্রসন্তান ঋজুস্মিতের জন্ম হয়। সেই সময় পীযূষকান্তি বিশ্বাসের পোস্টিং ছিল
রাজস্থানের জয়সলমীর এয়ারফোর্স স্টেশনে। পুত্রের জন্ম তাঁর পিতৃত্বের অনুভূতিকে
পূর্ণতা দেয় এবং জীবনের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
কর্মস্থল পরিবর্তন
হলেও দিল্লিই ধীরে ধীরে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি
সপরিবারে দিল্লির মহাবীর এনক্লেভ অঞ্চলে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
পরবর্তীকালে তিনি এই অঞ্চলেরই বাঙালি কলোনিতে একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট কেনেন এবং
সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। নতুন দিল্লিতে তাঁর এই থিতু হওয়া কেবল
বাসস্থান পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল তাঁর সাহিত্য
জীবনের উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার সূচনা।
সাহিত্য
জগতে পদার্পণ: মহাবীর এনক্লেভ থেকে কথাঞ্জলীর
আঙিনায়
দিল্লির মহাবীর
এনক্লেভ অঞ্চলটি প্রবাসী বাঙালিদের একটি পরিচিত ঠিকানা। এখানে বসবাসকারী বাঙালি
পরিবারগুলির মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠেছিল।
পীযূষকান্তি বিশ্বাস এই পরিবেশের সাথে দ্রুত মিশে যান। বায়ুসেনার চাকরি এবং
প্রযুক্তিগত পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁর মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীল সত্তাটি এবার
প্রকাশের পথ খুঁজে পায়।
২০০২ সালের মে মাস
তাঁর সাহিত্য জীবনের এক মাইলফলক। এই সময়ে মহাবীর এনক্লেভ থেকে প্রকাশিত 'কথাঞ্জলী' নামক একটি বাংলা লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর
প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এই প্রকাশ তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। 'কথাঞ্জলী’ পত্রিকাটি ছিল সেই অঞ্চলের সাহিত্যপ্রেমী
মানুষদের একটি মিলনক্ষেত্র। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন শ্রী দিলীপ কুমার
ব্যানার্জী। পীযূষকান্তি বিশ্বাস কেবল লেখক হিসেবেই নয়, পত্রিকাটির
প্রকাশনার সাথেও বিভিন্নভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত
দীর্ঘ এক দশক ধরে ' কথাঞ্জলী 'র সাথে
যুক্ত ছিলেন এবং পত্রিকাটিকে সচল রাখতে নানা ধরনের ভূমিকা পালন করেন। এই সময়ে তিনি
নিয়মিত কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং মহাবীর এনক্লেভের বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায়
(সাহিত্য বাসর) সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে থাকেন। এই সাহিত্যিক পরিমণ্ডল তাঁর কবি
প্রতিভাকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। দিলীপ কুমার ব্যানার্জীর মতো অভিজ্ঞ সম্পাদকের
সান্নিধ্য ও উৎসাহ তাঁর সাহিত্য যাত্রাকে মসৃণ করে তোলে।
প্রথম
গ্রন্থ প্রকাশ ও সাহিত্যিক যোগাযোগের বিস্তার
দীর্ঘদিন ধরে কবিতা
লেখার পর পীযূষকান্তি বিশ্বাস তাঁর লেখাগুলিকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের কথা ভাবেন।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তাঁর প্রথম কবিতার বই প্রকাশ করেন। বইটির নাম ছিল
'বাধা নই রক্ত'। এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা
থেকে প্রকাশিত হয়নি, বরং নিজের উদ্যোগেই কম্পিউটার
প্রিন্ট-আউট ফর্মে এটি প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এই আপাত অনাড়ম্বর প্রকাশের মধ্যেও
একটি বিশেষ প্রাপ্তি ছিল। বইটির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন ' কথাঞ্জলী
' পত্রিকার সম্পাদক, তাঁর সাহিত্য জীবনের
প্রথম দিকের পথপ্রদর্শক, দিলীপ কুমার ব্যানার্জী। এটি ছিল
তরুণ কবি পীযূষকান্তির জন্য এক বিরাট সম্মান ও স্বীকৃতি। এই বইটি তাঁর
আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
এরপর দিল্লির বাংলা
সাহিত্য জগতে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি 'দিল্লী হাটার্স' নামে একটি
সাহিত্য গোষ্ঠীর সাথে পরিচিত হন। এই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা
পালন করেছিলেন দীপঙ্কর দত্ত এবং দিলীপ ফৌজদার। 'দিল্লী হাটার্স ' ছিল দিল্লির তরুণ ও প্রতিষ্ঠিত বাঙালি
লেখক-কবিদের একটি প্রাণবন্ত আড্ডা ও বিনিময়ের ক্ষেত্র। এখানে তিনি অরূপ চৌধুরী,
কৃষ্ণা মিশ্র ভট্টাচার্য, অগ্নি রায় সহ আরও
অনেক সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে আসেন। এই সংযোগগুলি তাঁর সাহিত্যিক
দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও প্রসারিত করে এবং নতুন সৃষ্টির অনুপ্রেরণা জোগায়।
সাহিত্যচর্চার
ধারাবাহিকতা: ঘুমঘর ও আকাশচুম্বন
'দিল্লী হাটার্স ' গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হওয়ার পর পীযূষকান্তি
বিশ্বাসের সাহিত্যচর্চা আরও গতি পায়। এই গোষ্ঠীর উদ্যোগেই তাঁর দ্বিতীয়
কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পথ সুগম হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে 'দিল্লী
হাটার্স ' থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর
দ্বিতীয় কবিতার বই 'ঘুমঘর'। বইটির
প্রকাশক ছিলেন গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য দিলীপ ফৌজদার। এই বইটি দিল্লির সাহিত্য মহলে
যথেষ্ট সমাদৃত হয় এবং কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করে।
এর ঠিক দু'বছরের মাথায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, তিনি পৌঁছে যান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে। এবার তাঁর কবিতার বই
প্রকাশিত হয় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিচিত প্রকাশনা সংস্থা 'অভিযান
পাবলিশার্স' থেকে। বইটির নাম 'আকাশচুম্বন'। কলকাতা থেকে বই প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর পাঠক সমাজের
কাছে পৌঁছানোর সুযোগ লাভ করেন। 'আকাশচুম্বন' কাব্যগ্রন্থটি তাঁর কবি জীবনের এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। পরপর তিনটি
কাব্যগ্রন্থ ('বাধা নই রক্ত', 'ঘুমঘর',
'আকাশচুম্বন') প্রকাশের মাধ্যমে তিনি দিল্লির
বাংলা কবিতার জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হন। তাঁর
কবিতায় পাওয়া যায় প্রেম, প্রকৃতি, ব্যক্তিগত
অনুভূতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং এক প্রবাসী মনের শিকড়ের
প্রতি টান।
সম্পাদনার
জগতে প্রবেশ: কথাঞ্জলী থেকে দেহলিজ
পীযূষকান্তি
বিশ্বাস কেবল একজন কবি হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি,
সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর
সম্পাদনা যাত্রা শুরু হয়েছিল 'কথাঞ্জলী’ পত্রিকার সাথে যুক্ত থাকার সময় থেকেই, যেখানে তিনি
বিভিন্ন ভূমিকায় ছিলেন (২০০২-২০১২)।
এরপর ২০১২ থেকে
২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি পালাম কলোনি থেকে প্রকাশিত 'প্রতিভা
পথিকৃৎ' নামক একটি পত্রিকার সাথে যুক্ত হন। এই পত্রিকার
সম্পাদক ছিলেন গোপাল চন্দ্র পাল। পীযূষকান্তি বিশ্বাস পত্রিকাটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন
এবং এর মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
২০১৬ থেকে ২০১৭
সালের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য তিনি দিল্লি এনসিআর অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাংলা
পত্রিকা 'দিগঙ্গন'-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও কাজ করেন।
'দিগঙ্গন' বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের
মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় এবং দিল্লির বাঙালি সমাজে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
তাঁর সম্পাদনা
জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় 'শূন্যকাল'
পত্রিকার সাথে। 'শূন্যকাল' ছিল একটি ওয়েব ম্যাগাজিন, যা শুরু করেছিলেন এবং
সম্পাদনা করতেন দীপঙ্কর দত্ত। ২০১৬ সালে দীপঙ্কর দত্তের আকস্মিক প্রয়াণের পর
পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেই কঠিন সময়ে পীযূষকান্তি বিশ্বাস এগিয়ে
আসেন এবং পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সাল
থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে 'শূন্যকাল'-এর সম্পাদনা করেন এবং প্রয়াত সম্পাদকের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। এটি ছিল
তাঁর সাহিত্যিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
'শূন্যকাল'-এর সম্পাদনার অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি নতুন উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করে। ২০১৮
সালে তিনি নিজেই একটি নতুন ওয়েব ম্যাগাজিন শুরু করেন, যার
নাম দেন 'দেহলিজ'।
'দেহলিজ' নামটি
দিল্লির প্রতি ইঙ্গিতবাহী এবং একইসাথে এটি সাহিত্য জগতের প্রবেশদ্বারকেও বোঝায়। এই
ওয়েব ম্যাগাজিনটি অল্প সময়ের মধ্যেই পাঠক ও লেখকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ
করে। পীযূষকান্তি বিশ্বাস অত্যন্ত যত্ন ও মুন্সিয়ানার সাথে 'দেহলিজ'-এর সম্পাদনা করে চলেছেন। পরবর্তীকালে 'দেহলিজ'-এর নির্বাচিত লেখাগুলি
নিয়ে গ্রন্থাকারে 'নির্বাচিত দেহলিজ'
নামে মুদ্রিত সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানেও তিনি 'দেহলিজ'-এর সম্পাদকের দায়িত্ব
পালন করছেন এবং এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি দিল্লি তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে
ছড়িয়ে থাকা বাঙালি লেখক-কবিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন। 'দেহলিজ' (https://dehlij.blogspot.com) তাঁর সম্পাদনা
জীবনের এক সার্থক সৃষ্টি।
পেশাগত
জীবন: বায়ুসেনা থেকে আন্তর্জাতিক আইটি জগৎ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন
পীযূষকান্তি
বিশ্বাসের জীবন দুটি সমান্তরাল পথে প্রবাহিত – একটি সাহিত্যের স্নিগ্ধ জগৎ,
অন্যটি প্রযুক্তির যুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র। ভারতীয় বায়ুসেনায়
কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি সেখানে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দায়িত্ব সামলেছেন। এয়ার
ডিফেন্স অপারেশন, কার্টোগ্রাফি থেকে শুরু করে EDP সেলে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট – বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি তাঁর দক্ষতার পরিচয়
দিয়েছেন।
বায়ুসেনা থেকে অবসর
গ্রহণের পর তিনি কর্পোরেট জগতে প্রবেশ করেন। তাঁর প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা
তাঁকে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শিল্পে
এক উজ্জ্বল কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করে। তিনি প্রথমে 'ইনফোগেইন'
(Infogain) নামক একটি বহুজাতিক আইটি কোম্পানিতে যোগদান করেন। এই
কোম্পানির হয়েই তিনি ২০০৭ সালে অফিশিয়াল ট্যুরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে
যান, যা তাঁকে আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের সাথে পরিচিত হওয়ার
প্রথম সুযোগ করে দেয়।
এরপর তিনি যোগ দেন 'পেরোট সিস্টেমস'-এ (Perot Systems)। এই কোম্পানির হয়ে ২০০৮
সালে তিনি অফিশিয়াল ট্যুরে লন্ডনে যান। এই আন্তর্জাতিক ভ্রমণগুলি তাঁর পেশাগত
অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রসারিত করে।
পরবর্তীকালে তিনি
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা 'ডেল'-এ (Dell) যোগদান করেন। ডেল-এর হয়ে তিনি ২০১২ সালে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের রাউন্ড রকে যান কোম্পানির জন্য ক্লাউড সিস্টেম
তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্টে কাজ করার জন্য। ক্লাউড কম্পিউটিং-এর মতো অত্যাধুনিক
প্রযুক্তিতে তাঁর দক্ষতা বাড়তে থাকে।
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে আসার পর তিনি যোগ দেন আর একটি বিখ্যাত আমেরিকান
বহুজাতিক সংস্থা 'আইবিএম'-এ (IBM)। বর্তমানে
তিনি আইবিএম-এ ক্লাউড আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত। এই উচ্চ পদে আসীন থেকে তিনি
প্রযুক্তির জগতে নিরন্তর অবদান রেখে চলেছেন।
তাঁর প্রযুক্তিগত
শ্রেষ্ঠত্বের এক অসামান্য নিদর্শন হল তাঁর নামে থাকা তিনটি আমেরিকান পেটেন্ট (USPTO)। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের
জন্য এই পেটেন্টগুলি লাভ করা নিঃসন্দেহে এক বিরাট কৃতিত্ব এবং মানবতার কল্যাণে
তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের সাক্ষ্য বহন করে। এছাড়াও তিনি দশটি টেকনিক্যাল পাবলিকেশন
ও পেপার লিখেছেন, যা প্রযুক্তি জগতে তাঁর
জ্ঞান ও গবেষণার গভীরতার পরিচায়ক। পেশাগত জীবনে তাঁর এই সাফল্য তাঁকে গুরুগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সম্মানও এনে দিয়েছে।
প্রযুক্তি
ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: এক বিরল সমন্বয়
পীযূষকান্তি
বিশ্বাসের অনন্যতা এখানেই যে, তিনি প্রযুক্তি ও
সাহিত্য – এই দুই আপাতভিন্ন জগৎকে অনায়াসে মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি কেবল একজন
প্রযুক্তিবিদ বা কেবল একজন সাহিত্যিক নন, তিনি এই দুইয়ের
সংযোগকারী এক সেতু। তাঁর প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সেবায়
নিপুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন।
তিনি প্রয়াত
দীপঙ্কর দত্তকে 'শূন্যকাল' ওয়েব ম্যাগাজিনটি প্রযুক্তিগতভাবে তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন। নিজের ওয়েব
ম্যাগাজিন 'দেহলিজ'-এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেও তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করেছে।
বাংলা ভাষাভাষীদের
জন্য তাঁর এক উল্লেখযোগ্য অবদান হল 'লিপিকা'
(Lipika) সফটওয়্যার তৈরি করা। এই সফটওয়্যারটি ইংরেজি কিবোর্ড
ব্যবহার করে সহজেই ইউনিকোড ফরম্যাটে বাংলা টাইপ করার সুবিধা প্রদান করে। বাংলা
লেখার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারবান্ধব টুল।
এছাড়াও তিনি বাংলা
ভাষার জন্য 'কম্পিউটার এইডেড পোয়েট্রি'
(Computer Aided Poetry) সফটওয়্যার তৈরির মতো অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলা কবিতার গঠন, ছন্দ, মিল ইত্যাদি বিশ্লেষণ বা সৃষ্টিতে সহায়তা করার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে
প্রশংসার যোগ্য। এটি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ
সাহিত্যের বিকাশেও সহায়ক হতে পারে। তাঁর এই উদ্যোগগুলি বাংলা সাহিত্যকে ডিজিটাল
যুগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আন্তর্জাতিক
পরিমণ্ডলে সাহিত্যিক পদচারণা ও স্বীকৃতি
পীযূষকান্তি
বিশ্বাসের সাহিত্য প্রতিভা কেবল দিল্লির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি,
তা ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। তিনি একজন কবি হিসেবে দক্ষিণ
এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) আয়োজিত একটি
উল্লেখযোগ্য সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ লাভ করেন। এটি ছিল তাঁর সাহিত্যিক
জীবনের এক বড় স্বীকৃতি।
এছাড়াও দিল্লির
প্রগতি ময়দানে আয়োজিত বিশ্বপুস্তক মেলা (World
Book Fair) এবং কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণকারী কবিদের
তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা তাঁর কবি পরিচিতিকে
আর সুখ্যাতি দিয়েছে।
কেবলমাত্র পেশাগত
কাজেই নয়,
সাহিত্যের টানেও তিনি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি
বাংলাদেশ সফর করেন। চট্টগ্রামের একটি সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ওপার
বাংলার সাহিত্যিক ও পাঠকদের সাথে ভাব বিনিময়ের সুযোগ লাভ করেন। এই সফর দুই বাংলার
সাহিত্যিক সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করেছে।
ব্যক্তিগত
জীবন ও পারিবারিক পরিমণ্ডল
পীযূষকান্তি
বিশ্বাস এক বর্ণময় কর্মজীবন ও সাহিত্য জীবনের অধিকারী হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের
ভিত্তি অত্যন্ত দৃঢ়। তাঁর পিতা জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও মাতা করুণাময়ী বিশ্বাসের
স্নেহছায়ায় তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর সহধর্মিণী বিউটি বিশ্বাস তাঁর জীবনের প্রতিটি
পদক্ষেপে,
বিশেষ করে তাঁর সাহিত্যচর্চায়, এক নীরব কিন্তু
দৃঢ় সমর্থনের উৎস। তাঁদের একমাত্র পুত্র ঋজুস্মিত বিশ্বাসকে নিয়ে তাঁদের সুখী
পরিবার। দিল্লির মহাবীর এনক্লেভের বাঙালি কলোনিতে তাঁদের শান্তির নীড়। পরিবার তাঁর
জীবনে অনুপ্রেরণা ও মানসিক আশ্রয়ের এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র।
উপসংহার:
এক বহুমাত্রিক প্রতিভার নিরন্তর যাত্রা
পীযূষকান্তি
বিশ্বাস এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর মধ্যে
প্রযুক্তিবিদের যুক্তিনিষ্ঠ মনন এবং কবির সংবেদনশীল হৃদয়ের এক আশ্চর্য সমন্বয়
ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার গ্রাম্য পরিবেশ থেকে যাত্রা শুরু করে ভারতীয়
বায়ুসেনার শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, অতঃপর আন্তর্জাতিক কর্পোরেট
জগতের শীর্ষস্থানে আরোহণ এবং একইসাথে বাংলা কবিতার জগতে নিজস্ব স্বাক্ষর রাখা –
তাঁর জীবনযাত্রা এক বহুমাত্রিক উপাখ্যান।
সার্ক সাহিত্য উৎসব
থেকে শুরু করে কলকাতা ও দিল্লি বইমেলা, এমনকি
বাংলাদেশের সাহিত্য মঞ্চেও তাঁর উপস্থিতি তাঁর সাহিত্যিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার
প্রমাণ। গুরুগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে তাঁর সম্মাননা তাঁর পেশাগত
শ্রেষ্ঠত্বের দ্যোতক।
পীযূষকান্তি
বিশ্বাস প্রমাণ করেছেন যে, পেশা ও নেশা, প্রযুক্তি ও শিল্প, যুক্তি ও আবেগ একসাথে চলতে পারে
এবং একে অপরকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাঁর জীবন ও কর্ম প্রবাসী বাঙালি তো বটেই,
সকল সাহিত্য ও প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা। নতুন
দিল্লির বুকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে, একজন সংবেদনশীল কবি ও দক্ষ সম্পাদক হিসেবে এবং একজন সফল প্রযুক্তিবিদ
হিসেবে তাঁর যাত্রা আজও অব্যাহত। আশা করা যায়, আগামী দিনে
তাঁর কলম ও মেধা বাংলা সাহিত্য এবং প্রযুক্তি জগৎকে আরও অনেক নতুন দিশা দেখাবে।
তাঁর এই দ্বৈত সত্তার নিরন্তর পথচলা সমৃদ্ধ করুক আমাদের সাহিত্য ও জীবনকে।
Comments
Post a Comment