দ্বিমাত্রিক আখ্যান
আপনার দেওয়া শৈলী এবং বিষয়বস্তুকে একত্রিত করে, পূর্বের গল্পটিকে নতুন আঙ্গিকে, প্রায় ৪০০০ শব্দের একটি সাহিত্যিক গদ্যে পুনরায় রচনা করা হলো। **তাজমহল: এক ভার্চুয়াল মূর্তির জ্যামিতি** **প্রথম অধ্যায়: প্রতিসরণের ওপারে লক্ষ্মী ও বিশুর দোকানের ধোঁয়া** আমার জগৎ ছিল পাঠ্যপুস্তকের সাদা-কালো অক্ষরের, ইতিহাসের ধূসর সাল-তারিখের। এর বাইরে যে কোনো তীব্র রঙের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তা আমার কাছে ছিল এক দুর্বোধ্য হেঁয়ালি। সেই তীব্রতার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অতি ক্ষুদ্র প্রতীত হতো, জলজ্যান্ত রূপকগুলো কীভাবে চোখের সামনে বেগুনী হয়ে আসে, তা আমি দূর থেকে দেখতাম। আমি কোনোদিন সেই রঙের গভীরে ডুব দেওয়ার জন্য প্রতিসরণের আশ্রয় বা প্রতিফলনের দ্বারস্থ হইনি, কারণ আমি জানতাম, সেই পথ আমাকে এক যান্ত্রিক বিমূর্ততার দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে, যেখানে দেখা বা না-দেখা বা কোনো অভিব্যক্তিই আর কোনো দৃশ্যকল্প তৈরি করতে পারে না। আমার ভিতর ও বাহিরকে এক সমান্তরালে এনেও যে অবয়বটা চোখের সামনে এসে দাঁড়াত, সেটা ছিল এক ভার্চুয়াল মূর্তি। অথচ আমি মরিয়া হয়ে ছুঁয়ে দেখতে চাইতাম তার রক্তমাংস, শুঁকে নিতে চাইতাম তার গন্ধ, চোখ ভরে দেখে নিতে চাইতাম তার রূপ আর রং। যে রং আমি কোনোদিন ছুঁয়ে দেখিনি, সচেতনতার সাথে বারবার এড়িয়ে যেতে চেয়েছি যার উজ্জ্বল রশ্মি, তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কাছে চিরকাল অধরা রয়ে গেছি। এই রং, এই ভার্চুয়াল মূর্তিরই মানবিক রূপ ছিল লক্ষ্মী। আর আমার এই না-ছুঁতে পারার আখ্যানের প্রেক্ষাপট ছিল পাড়ার মোড়ে বিশুর টিনের চালের দোকান। এখানে আমি, বিনয়, ক্লাসের ফার্স্ট বয়। পড়াশোনা, মার্জিত আচরণ আর সম্ভ্রান্ত পরিবারের তকমা—এইসব ছিল আমার বর্ম। যে বর্মের আড়ালে আমি লুকিয়ে রাখতাম আমার সমস্ত কুণ্ঠা, আমার সমস্ত অক্ষমতা। আমার বন্ধুরা—সুরেশ, রতন, তন্ময়—তারা এই বর্মটাকে নিয়ে খুব চটাত। ওরা বলত, "বই পড়ে পোঁকার হওয়া যায়, কিন্তু জিন্দেগীকা মজা নেওয়া যায় না।" ওদের কাছে 'জিন্দেগীকা মজা' ছিল সিগারেটের ধোঁয়ার মতো সহজলভ্য আর ক্ষণস্থায়ী। বিশুর দোকানের আড্ডার সাথে দু-এক টান ধোঁয়া, বুক ভরা নিঃশ্বাস, আর চোখ বুজে কলেজ ছুটির পর মেয়েদের হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য কল্পনা করা—এই ছিল ওদের জীবন। আর সেই হেঁটে যাওয়া মেয়েদের ভিড়ে ছিল দীপিকার খিলখিল হাসি, মালতীর উদাসীনতা, আর ছিল লক্ষ্মীর উদ্ধত যৌবন—এক অতি আলো বা অতি কালোর মতো তীব্র, যাকে ছুঁতে গেলেও এক দুর্বার সাহস লাগে। সে ছিল এক অন্ধকারময় খনিজের ব্যূহ, যা ভেদ করে তার কাছে পৌঁছানো ছিল পর্বতপ্রমাণ অভিপ্রায়। এক মুহূর্তেই চোখ ঝলসে উঠত। অন্তরে তাক লেগে যেত। কারণ বা অকারণ, উচিত বা অনুচিত, ঠিক ঠাহর হতো না। বন্ধুরা সাহস করে ওর সামনে যেত না, কিন্তু আড়চোখে ওদের সিটিস্ক্যানার চালু হয়ে যেত। ওদের আলোচনাগুলো ছিল কাঁচা, আদিম। আমি সেইসব দেখতাম, শুনতাম। আমারও চোখ যেত লক্ষ্মীর দিকে, কিন্তু পরক্ষণেই আমার তিনতলা বাড়ি, বাবা-কাকার নামডাকের কথা মনে পড়ত। সেই ভয়টা আমাকে ফিরিয়ে আনত আমার নিরাপদ জগতে। আমি তখন আর লক্ষ্মীকে দেখতাম না। আমি দেখতাম তাজমহলকে। লক্ষ্মীর শারীরিক উপস্থিতি আমার মস্তিষ্কের কোষে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাত, তাকে প্রশমিত করার জন্য আমি আশ্রয় নিতাম ইতিহাসের শীতল, নিরাবেগ তথ্যের। ওর নিখুঁত মুখের প্রতিসাম্যের মধ্যে আমি খুঁজে পেতাম শাহজাহানের স্থাপত্যের জ্যামিতি। ওর হাঁটার ছন্দের মধ্যে আমি শুনতাম যমুনার স্রোতের শব্দ। এই প্রক্রিয়াটা ছিল আমার আত্মরক্ষার কৌশল। আমি ওকে রক্ত-মাংসের নারী হিসেবে দেখতে চাইতাম না, কারণ তাহলে আমাকে আমার নিজের অনুভূতির মুখোমুখি হতে হতো। তাই আমি ওকে রূপান্তরিত করেছিলাম এক ভার্চুয়াল মূর্তিতে, এক জীবন্ত স্থাপত্যে। আমি ওর প্রেমিক হতে চাইতাম না, আমি হতে চাইতাম ওর কিউরেটর। যে ছুঁয়ে দেখবে না, শুধু ক্যাটালগ তৈরি করবে। আমার এই জটিল মানসিক সমীকরণ বন্ধুদের কাছে ছিল দুর্বোধ্য। ওরা ছিল সরল গণিতের ছাত্র। একের পিঠে এক, দুইয়ের পিঠে দুই—এই ছিল ওদের হিসাব। রতন একদিন বলল, সে স্বপ্নে লক্ষ্মীকে ছুঁয়েছে। ওর স্বপ্নের বসন্তে লক্ষ্মীর হলুদ শাড়ি উড়েছে, শাড়ির নিচ থেকে কমলা ব্লাউজ যেন ছিঁড়ে বেরোতে চেয়েছে। তন্ময় বলল, সে স্বপ্নে লক্ষ্মীর সঙ্গে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চিকেন চাউমিন খেয়েছে, সাথে ফ্রি ছিল একটা চুমু। ওদের এই সব গোঁজামিল দিয়ে বোনা ফ্যান্টাসির জগতে আমি ছিলাম এক বেমানান, রসহীন ইন্টিজার। কেউ আমার স্বপ্নে আসত না। আমার স্বপ্নে আসত শুধু পরীক্ষার হলের শূন্যতা, আর এমন কিছু অংক যা কিছুতেই মিলছে না। আমি বারবার স্মৃতির খাতা থেকে ফর্মুলা তুলে এনে কষে দেখতাম, কিন্তু প্রতিবারই ভাগশেষে পড়ে থাকত এক অদ্ভুত নীল শূন্যতা। **দ্বিতীয় অধ্যায়: ফ্রেমবন্দী মুহূর্ত ও একটি না-খাওয়া চুমু** তো ঘটনাটা এই, আমার দিদির বিয়ে ভাতের দিন। বাড়ি তখন লোকারণ্য। সেই ভিড়ের মধ্যেই অনিবার্য এক মুহূর্ত এল—ফটো সেশন। আর সেখানেই, স্টুডিওর কৃত্রিম আলোর বন্যায়, আমার ভার্চুয়াল মূর্তিটা হঠাৎ করেই রক্ত-মাংসে জীবন্ত হয়ে উঠল। লক্ষ্মী। একটা আকাশি রঙের শাড়িতে ও যেন কোনো প্রতিসরণের সূত্র না-মানা আলোর কণা। ফটোগ্রাফারের নির্দেশে আমরা একসময় একটা গ্রুপ ফোটোর জন্য পাশাপাশি এসে দাঁড়ালাম। আর তখনই, সেই মানবসমুদ্রের মাঝখানে, আমরা দুজন যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হলাম। আমাদের চোখাচোখি হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃষ্টি বিনিময়। ওর চোখে আমি দেখতে পেলাম আসন্ন শতাব্দীর অভিসম্ভাবী ব্যস্ততার পূর্বাভাস, অফিস যাত্রীদের মরীয়াপণ, ছুটে যাওয়া হকার, টিকিটহীন যাত্রীর মতো অজস্র না-বলা অভিব্যক্তি। ওর চোখগুলোই যেন কবিতার কথা বলে ওঠা এক জীবন্ত চিত্রকল্প। আমার মনে হলো, অজস্র টানা ব্রাশের পাশে এ এক শূন্যতর প্রাঙ্গণ, যেখানে আমরা দুজন ছাড়া আর কোনো মননই যেন শিল্পকর্ম নয়। লক্ষ্মীও বোধহয় একটু কাছে আসতে চেয়েছিল। ওর শরীরটা সামান্য ঝুঁকেছিল আমার দিকে, ঠোঁটের কোণে ছিল এক দুর্বোধ্য হাসি—যেন এক উজ্জ্বল বাতাবী লেবু, যার স্বাদ নেওয়ার জন্য কোনো অ্যাসিডের বিক্রিয়া ক্ষমতা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু এক উদগ্রীব চুমুকের। ঠোঁটের সেই লালাভ উস্কানিতে মানুষ আগুন-নদী পার করে যায়। আর আমি? আমি তখন আমার মস্তিষ্কের ভেতরে শাহজাহান আর মমতাজের প্রেমকাহিনীর ঐতিহাসিক সত্যতা যাচাই করছি। রমেশচন্দ্র মজুমদার এই বিষয়ে কী বলেছিলেন, সেই উক্তিটা মনে করার চেষ্টা করছি। আমার ভেতরের সেই ‘ভালো ছেলে’, সেই ফার্স্ট বয় সত্তাটা আমাকে থামিয়ে দিল। আমি এক্কেবারে চুপ। নিশ্চুপ। আমার মনে হলো, এই তো সেই মুহূর্ত, যেখানে গণিতের সমস্ত হিসাব গুলিয়ে যায়। যেখানে এমন একটা ‘এক্স’ সামনে এসে দাঁড়ায় যা নিজে রিয়েল ইন্টিজার, কিন্তু তার সঙ্গে এমন একটা ‘আই’ জুড়ে থাকে যার কোনো সাইন নেই। যে কোনো সংখ্যার সাথেই যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করো, ফলাফল একই থাকে, অথচ সহস্রবার গণনার পর দেখা যায়, ভাগশেষে নীল পড়ে আছে আর একটা শূন্য কিছুতেই মিলছে না। আমার মনে হলো, কি করি, একটা চুমু খাই তাহলে? আমার হাতটা যেন নিজের থেকেই ওর গ্রীবার উল্টোদিকে চালিত হতে চাইল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশটা জ্বলে উঠল। মুহূর্তটা ফ্রেমবন্দী হয়ে গেল। আমাদের দুজনের মাঝখানে রয়ে গেল কয়েক ইঞ্চির এক অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব। আমরা বুঝতে পারছিলাম, অনতিদূরে গঙ্গা যখন দুপারেই ভাঙছে, তখন আমাদের প্রেমকাহিনীর সূত্রপাত হওয়ার আগেই তার সমাপ্তি ঘটে গেল। আমার হাত থেকে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার আগেই, আমাদের মধ্যে কোনো স্পর্শ হওয়ার আগেই, মুহূর্তটা অতীত হয়ে গেল। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা হয়তো সেই ফ্রেমে দাঁড়িয়েছিলাম, এক অচেনা ভবিষ্যৎ যাত্রার শুরুর জন্য, সেই যাত্রা আর শুরুই হলো না। **তৃতীয় অধ্যায়: দেওয়ালের তাজ ও মুছে যাওয়া রং** তারপর কত বছর কেটে গেছে। সময় এখন আর পলতা স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা রাণাঘাট লোকালের মতো অপেক্ষা করে না। সে এখন দুরন্ত গতির এক বুলেট ট্রেন, যা অজস্র স্টেশনকে পিছনে ফেলে ছুটে চলে। বিশুর দোকানের আড্ডাটা কবেই এক ধূসর স্মৃতি হয়ে গেছে। রতন, সুরেশ, তন্ময়—ওরা সবাই এখন জীবনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া একেকজন টিকিটহীন যাত্রী। আর লক্ষ্মী? সে কবেই ব্যাঙ্গালুরুগামী কোনো এক ট্রেনে চড়ে বসেছে। হয়তো সেও বলেছিল, "ব্যাঙ্গালোর গিয়ে চিঠি দিও কিন্তু। ভুলে যেও না প্লীজ।" কিন্তু আমি তো কোনোদিন ওর ঠিকানাটাই জানতে চাইনি। আমার জীবনটাও এগিয়েছে। আমি ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছি, ভালো চাকরি পেয়েছি, আমাদের তিনতলা বাড়িটা এখন আরও উঁচু হয়েছে। আমার দেওয়াল জুড়ে এখন অনেকগুলো ফটো ফ্রেম। মা-বাবার ছবি, দিদির পরিবারের ছবি, আমার সাফল্যের ছবি। ছবিগুলো চুপচাপ। কেউ কথা বলে না। কোথাও লক্ষ্মী নেই। মাঝে মাঝে আমি দিদির বিয়ের অ্যালবামটা খুলি। সেই গ্রুপ ফোটোটার দিকে তাকিয়ে থাকি। ছবির মধ্যে আমরা দুজন। আমাদের ঘিরে থাকা চেনা হাস্যমুখগুলো ব্লার হয়ে আছে। একটা ভগ্ন হৃদয়ের আনচান আর কর্মজীবনের টানাপোড়েনের এক নিখুঁত চিত্রকল্প। আমার মনে হয়, কোনোদিন বাড়ি ফিরব বলে যে কথা আমি ভাবছি, মূল সূত্রে যে তার একটা বাড়ি প্রয়োজন, সেই কথা ভেবেই হয়তো আমি সেদিন লক্ষ্মীর হাতটা ধরতে পারিনি। ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়ার জন্যই হয়তো ও জন্মেছিল। আর আমি জন্মেছিলাম সেই ভিড়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক একা দর্শকের মতো। আমার দেওয়ালে এখন তাজমহলের এক দ্বিমাত্রিক ছবি টাঙানো থাকে। বিনয় নামক ছেলেদের যা হয়। আমি এখন তাজমহলের একজন বিশেষজ্ঞ। ওর নির্মাণশৈলী, ওর ইতিহাস, ওর জ্যামিতি—সব আমার নখদর্পণে। আমি ওর শরীরটাকে চিনি, কিন্তু ওর আত্মাকে কোনোদিন ছুঁতে পারিনি। কারণ ওর আত্মা হলো এক বেপরোয়া, সর্বগ্রাসী আবেগের স্থাপত্য, যাকে কোনো গণিতের ফর্মুলায় ফেলা যায় না। এখন মাঝে মাঝে গভীর রাতে, যখন চারপাশের কোলাহল থেমে যায়, আমার মনে হয় আমি যেন পলতা স্টেশনের সেই ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একা দাঁড়িয়ে আছি। রাণাঘাট লোকালটা ছেড়ে গেছে। ঐন্দ্রিলার মতো লক্ষ্মীও ভিড়ে মিশে গেছে। বাতাসে ওর শরীরের হালকা গন্ধ ছড়িয়ে আছে। বিকেল শুরু হবে আর কিছুক্ষণ পরে। চলে যাওয়া ট্রেনের দিকে একটা শূন্যতা নিয়ে আমি তাকিয়ে থাকি। প্ল্যাটফর্ম থেকে যেন সব রং মুছে যায়, টিনের শেডে যেন শত শতাব্দীর ধূসরতা নেমে আসে। আমার মনে হয়, তাজমহলের ওই সাদা মার্বেলের ভেতর থেকে হাজার হাজার শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে। ওরা যেন বলছে, "মূর্খ! তুমি আমাদের হাড়-ভাঙা খাটুনির ইতিহাস মুখস্থ করেছ, কিন্তু যে ভালোবাসার জন্য আমরা এই সৌধ গড়েছিলাম, তার কিছুই তুমি বোঝোনি।" ওরা ঠিকই বলে। আমি এক মার্বেল পাথরের কারাগারে নিজেকে বন্দী করে রেখেছি। যে কারাগারে কোনো উত্তাপ নেই, কোনো স্পর্শ নেই, কোনো জীবন নেই। আছে শুধু নিখুঁত জ্যামিতি আর এক অনন্ত, শীতল শূন্যতা। আমার জীবনটা এখন এই দ্বিমাত্রিক তাজমহলটারই মতো—বাইরে থেকে দেখতে সফল, কিন্তু ভেতরে শুধু এক না-মেলা অংকের হাহাকার, এক না-খাওয়া চুমুর আফসোস। যে রং আমি কোনোদিন ছুঁয়ে দেখিনি, তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কাছে আমি চিরকাল অধরা রয়ে গেলাম।
Comments
Post a Comment