লীলা মজুমদার - আনন্দের জগৎ পীযূষকান্তি বিশ্বাস বাংলা ভাষার আকাশে শিশুসাহিত্যের নক্ষত্রমালা বহু প্রাচীন। সেখানে ঠাকুরমার ঝুলি , গোপালভাঁড় , সন্দেশ– এসব আমাদের এক অদৃশ্য সেতুতে বেঁধে রেখেছিল শৈশবের সঙ্গে। কিন্তু এই আকাশের এক বিশেষ মুহূর্তে , এক শান্ত অথচ দৃঢ় অথরিটি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন লীলা মজুমদার— যেন গোধূলিবেলায় খোলা মাঠে হঠাৎ উড়ে আসা এক বর্ণিল ঘুড়ি , যার রঙের ভিতরে লুকানো ছিল কেবল শিশুদের হাসি নয় , বরং কল্পনার মুক্ত আকাশ। লীলা মজুমদারের কাছে সাহিত্য মানেই ছিল আনন্দময় যোগাযোগ। যোগাযোগ— কেবল লেখক ও পাঠকের মধ্যে নয় , বরং পাঠক ও পাঠকের মনে জেগে ওঠা সেই অন্য দুনিয়ার মধ্যে। যেন গল্প পড়তে পড়তে শিশুটি ধীরে ধীরে খেয়াল করছে— তার বাস্তব জীবন আর কল্পনার জীবন , আলাদা হলেও , এক নরম সুতোর সঙ্গে বাঁধা। তিনি বিশ্বাস করতেন , শিশুর মনকে কোনো গাম্ভীর্যের সাপ্লাই দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া নয় , বরং তার ভিতর লুকোনো খেলাকে নাড়া দিতে হবে। পাঠকের মনে কল্পনার নরম দরজা খুলে দিতে হবে এমনভাবে , যে দরজা দিয়ে হাওয়া ঢুকে আসে , ঘ্রাণ আসে , রঙ উড়ে আসে— কখনো অসম্ভব , কখনো দুঃখ , কিন্তু সবসময়ই জীবন্ত।...
Comments
Post a Comment